বৃক্ষরোপণ হোক সামাজিক আন্দোলন

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ২১:৪৬

বিশেষ বিশেষ দিনে গাছ লাগানো যেতে পারে। সেটা হতে পারে জন্মদিন, সন্তানের প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন, বিবাহবার্ষিকী, পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন বা অন্য কোনো বিশেষ দিনকে উপলক্ষ করে। বিভিন্ন জরিপে দেশে প্রাকৃতিক বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বনের বাইরে অর্থাত্ সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। মানুষের সচেতনতা, কমিউনিটি উদ্যোগ এবং সরকারের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির কারণে লোকালয়ে বাড়ছে গাছের সংখ্যা, এটা নিঃসন্দেহে আশার কথা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০১৯’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টি ও তা সংরক্ষণ এবং অধিক হারে বৃক্ষরোপণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আঙিনা, ছাদ, সড়কসহ অফিস-আদালতের যেখানে পরিত্যক্ত জায়গা আছে, সেখানেই গাছ লাগাতে বলেছেন।

ঢাকা শহরসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর এলাকায় অনেকের ইচ্ছা থাকলেও জায়গার অভাবে গাছ লাগাতে পারেন না। এক্ষেত্রে ‘ছাদবাগান’ কর্মসূচির মাধ্যমে গাছ লাগানো যেতে পারে। বৃক্ষ মানুষকে মহত্ করে তোলে, শুদ্ধতা অর্জনের জন্যও বৃক্ষমুখী হওয়ার বিকল্প নেই! দেশের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম শিশু-কিশোরদের যদি বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলা যায় তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন দেশ ভরে উঠবে সবুজে সবুজে।

গাছ লাগানোর এখনই (জুলাই-আগস্ট) উপযুক্ত সময়। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, রেললাইন ও সড়কের পাশে, সরকারি-বেসরকারি অফিস, রাস্তার দুই পাশে, পতিত ও খাস জমিতে, উপকূলীয় এলাকা, গৃহস্থালির আঙিনা ও বাড়ির ছাদে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর সুযোগ রয়েছে। দরকার শুধু চেষ্টা ও রক্ষণাবেক্ষণের যথাযথ উদ্যোগ। আসুন গাছ লাগানোকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করি। 

সাধন সরকার, ৫/এ নারিন্দা লেন, নারিন্দা, সূত্রাপুর, ঢাকা