কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বেশি দামের আশায় গবাদিপশুকে মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন পশুর মালিকরা। গরু মোটাতাজাকরণে স্টেরয়েড বা হরমোনসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এসব ওষুধ প্রয়োগে মোটাতাজা করা গবাদিপশুর মাংস মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এমন মাংস খাওয়ার ফলে মানবদেহে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যদিও মত্স্য ও পশু খাদ্যের আইনে ধারার ১৪-তে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, গবাদিপশুর মোটাতাজাকরণে কোনো প্রকার হরমোন, স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য উত্পাদন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব ওষুধ উত্পাদন ও ব্যবহার বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়ায় এগুলো অন্য দেশ থেকে চোরাচালানির মাধ্যমে এদেশে আনা হয়। আশার বিষয় হলো— প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ ও সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী (বিজিপি) গত তিন বছর ধরে গরু মোটাতাজাকরণে স্টেরয়েড ও হরমোনসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য উত্পাদন, ব্যবহার ও চোরাচালানি বন্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আসছে। তবু সম্প্র্রতি দিনাজপুর হিলিতে বিজিপি সদস্যরা গবাদিপশু মোটাতাজাকরণের বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ আটক করতে সক্ষম হন। যেহেতু এখনো এমন ক্ষতিকর ওষুধের চোরাচালান সম্পূূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না—অতএব মানব স্বাস্থ্য রক্ষায় নজরদারি আরো বাড়ানো উচিত বলে মনে করি। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. মোশারফ হোসেন
নকলা, শেরপুর
