দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যের ডাক ড. ইউনূসের

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৪, ১৬:৩২

দেশে ফিরে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে সেটা সরিয়ে ফেলতে চাই। যারা বিপথে গেছে তাদের পথে আনতে চাই। যাতে আমরা একসাথে কাজ করতে পারি।’

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুর পৌনে ৩টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গৌরবের দিন। যে বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজকে নতুন বিজয় দিবস সৃষ্টি করলো সেটাকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। যে তরুণ সমাজ এটা সম্ভব করেছে তাদের প্রতি আমি আমার সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এরা এই দেশকে রক্ষা করেছে, দেশকে নতুনভাবে পুনর্জন্ম দিয়েছে। নতুন পুনর্জন্মে যে বাংলাদেশ পেলাম সেই দেশ যেন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে পারে সেটাই আমাদের শপথ।’

ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘এই স্বাধীনতাটা আমাদের রক্ষা করতেই হবে। শুধু তাই নয়, এই স্বাধীনতার সুফল আমাদের প্রতিটি ঘরে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে এই স্বাধীনতার কোনো দাম নাই। মানুষ যেন জানে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অর্থ হলো তার নিজের পরিবর্তন, সুযোগের পরিবর্তন, তার ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যতের পরিবর্তন। এটা যেন প্রত্যেকে বুঝে নেয়।’

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই দেশটা তোমাদের হাতে। এটাকে তোমরা তোমাদের মনের মতো করে গড়ে তুলবে। তোমরা যেহেতু দেশ স্বাধীন করতে পেরেছো, তোমরা মনের মতো করে গড়তেও পারবে। তোমাদের দেখে সারা দুনিয়া শিখবে, কীভাবে একটা দেশকে একটা তরুণ সমাজ পাল্টে ফেলতে পারে।’

‘সরকার বলে একটা জিনিস আছে কিন্তু তাতে মানুষের কোনো আস্থা নাই। মানুষ মনে করে, সরকার হলো দমন-পীড়নের একটা যন্ত্র। এটা সরকার হতে পারে না। সরকারকে দেখে মানুষের বুক ফুলে উঠবে যে, আমাকে সাহায্য করবে, রক্ষা করবে, আমার সরকার আমার জন্য দাঁড়াবে। সরকার মানুষের আস্থাভাজন হবে। আস্থাটা মানুষের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

সারা বাংলাদেশকে একটা পরিবার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে সেটা সরিয়ে ফেলতে চাই। যারা বিপথে গেছে তাদের পথে আনতে চাই। যাতে আমরা একসাথে কাজ করতে পারি।’

ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘আপনারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, ছাত্ররা আমাকে আহ্বান জানিয়েছে। আমি সাড়া দিয়েছি। দেশবাসীর প্রতি আমার আবেদন, আপনারা যদি আমার ওপর আস্থা রাখেন, ভরসা করেন তাহলে নিশ্চিত করেন যে, দেশে কোনো জায়গায় কারো ওপর হামলা হবে না। এটা আমাদের প্রথম দায়িত্ব। আমার কথা যদি আপনারা না শোনেন তাহলে আমাকে আপনাদের কোনো প্রয়োজন নাই। আমাকে বিদায় দেন। আমি আমার কাজে ব্যস্ত থাকি। যদি আমাকে প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমাকে দেখাতে হবে যে, আমার কথা আপনারা শোনেন।’ 

এর আগে তাকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

ইত্তেফাক/এআই