রোহিঙ্গাদের কবে ফেরত নেবে মিয়ানমার?

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ২১:৪৮

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৭ সালের আগস্টে সেনাশাসিত রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞে টিকতে না পেরে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তে দলে দলে পর্যায়ক্রমে আশ্রয় নেয় প্রায় এগারো লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে তারা ক্যাম্পের শরণার্থী আইডির মাধ্যমে খাদ্য, চিকিত্সা ও শিক্ষা সুবিধা পাচ্ছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রিত আছে প্রায় দুই বছর হতে চলল। কবে তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হবে? কবে ফেরত নেবে তাদের মিয়ানমার? দিন যতোই যাচ্ছে, সংকট ততোই প্রকট আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশ থেকে এগারো লাখ রোহিঙ্গাকে দেখানো মানবতার পতাকাতলে বিশ্ববিবেকের শক্তি যদি একজোট হয়ে মিয়ানমারকে তাদের নাগরিক ফেরত নিতে বাধ্য না করতে পারে তাহলে মানবতা, মানবেতর অবস্থানে যেতে সময়ের ব্যাপারমাত্র। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাঁর কাছে রোহিঙ্গাদের আরজি থেকে দুটি বিষয় স্পষ্ট: ১) ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে তারা আজো ভীতসন্ত্রস্ত। ২) শরণার্থী হিসাবে যে অতিথিসেবা তারা পাচ্ছে তাতে তারা সন্তুষ্ট। লক্ষণীয় বিষয় যে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে থাকতে চাচ্ছে। মিয়ানমার সামরিকজান্তাও বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণের মাধ্যমে রাখাইনদের বাংলাদেশে রাখতে চাচ্ছে।

উদ্দেশ্য পৃথক হলেও নির্যাতক ও নির্যাতিতের অবস্থান এক ও অভিন্ন। এ অবস্থায়, তাজিকিস্তানে সিআইসি-এর পঞ্চম সম্মেলনে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সমর্থন চেয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ।

মোহাম্মদ হযরত আলী

ইসলামপুর, ধামরাই, ঢাকা