সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচলে একের পর এক দুর্ঘটনা লেগেই আছে। গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মৌলভীবাজারের পলকি ও মনু ব্রিজের মাহতাবপুর এলাকায় রেলপথে একটি গরু উঠলে সিলেট অভিমুখী ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে’র চলাচল ব্যাহত হয়। এ ঘটনায় গরুটি মারা যায় এবং ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। ইঞ্জিন মেরামত করে এক ঘণ্টা পর ট্রেনটি সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। এর আগে গত ২৩ জুন রাতে ঢাকা অভিমুখী ‘উপবন এক্সপ্রেস’ বরমচাল স্টেশনের কাছে বড়োছড়া ব্রিজে ওঠার পর দুর্ঘটনার শিকার হলে চার জন যাত্রীর মৃত্যু ও দুশতাধিক যাত্রী আহত হন। এ সময় দুর্ঘটনায় পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং তিনটি বগি খালে পড়ে যায়।
সূত্র জানায়, সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ৯৫টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, ত্রুটিপূর্ণ লাইন ও রেল ইঞ্জিনগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় বগি টানতে পারছে না। রেললাইনের দুরবস্থা, জীর্ণ বগি সর্বোপরি টিকিট সংকটে যাত্রীরা অতিষ্ঠ। ১২৮ বছরের পুরান সিঙ্গেলওয়ে রেললাইন এবং এর সার্বিক উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। সামান্য ঝড়বৃষ্টি হলেই লাইন থেকে মাটি সড়ে যায়, নড়বড়ে হয়ে পড়ে রেলসেতু।
কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের কাছে টিলাপথে প্রায়ই আটকে পড়ে ট্রেন। রেলওয়ের গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী (পথ) বলেন, দুর্বল ইঞ্জিনগুলো প্রায়ই টিলা অতিক্রম করতে পারে না। তাই ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।
তিনি বলেন, নতুন ইঞ্জিন যুক্ত করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বরমচালে দুর্ঘটনার পর ঐ এলাকায় রেল চলার গতি কমানো হলেও যাত্রীদের আতঙ্ক কাটেনি। নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছতে। তাছাড়া, কমলগঞ্জের শমশেরনগরে ‘ধামাইলী ছড়া’রেলসেতুর নিচে মেরামত কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ঠিকাদারকে নিম্নমানের ইট সড়িয়ে নিয়ে ১ নম্বর ইট ব্যবহার করতে বলেছেন।
অন্যদিকে, রেলপথে দুর্ঘটনার পর সিলেট রেললাইনে নাট-বলটু না থাকা, লাইনে নিম্নমানের কাজ নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। তবে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ১৩৫ কিলোমিটার নতুন রেলপথ করা হবে ও সিলেট-আখাউড়া রেলপথের মিটারগেজ তুলে নতুন করে ডুয়েল গেজ লাইন করা হবে বলে গত ২৭ জুন ঘোষণা দেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বরমচালে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে এসে এমন ঘোষণা দেন।
ট্রেন উঠলেই কাঁপতে শুরু করে ব্রিজ
সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ছোটো-বড়ো ২৫০টিরও বেশি রেলসেতু রয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা এগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে মানতে নারাজ। তারা বলেছেন, মেরামতযোগ্য সেতুর সংখ্যা ছয়টি। সেগুলো হলো—হবিগঞ্জের শাহজিবাজারে ৭৩ নম্বর সেতু, লস্করপুরে ১০২ নম্বর সেতু, শায়েস্তাগঞ্জে ১০৫ নম্বর সেতু, বাহুবলের রশিদপুরে ১১৪ নম্বর সেতু, কমলগঞ্জের ভানুগাছে ১৮৩ নম্বর সেতু এবং ছাতকে ৩২ নম্বর সেতু।
সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, সিলেট-ঢাকা রুটে ৪৩টি সেতু ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ৫২টিসহ মোট ৯৫টি রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সেতুর বয়স ৮০-১২৮ বছর।
