বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশাল এলাকার বেড়িবাঁধ অরক্ষিত থাকার কারণে কক্সবাজারের উপকূলীয় জনপদ পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি। এতে পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় জনসাধারণ। অভিযোগ উঠেছে, বেড়িবাঁধ সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কার্যাদেশ নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চরম অবহেলা করছেন। এ অবস্থায় বর্ষার শুরুতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা।
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা মগনামা ইউনিয়নের লঞ্চঘাট থেকে শরতঘোনা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ১ কিলোমিটার অরক্ষিত বেড়িবাঁধ উপচে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। জোয়ারের পানির ধাক্কায় ভাঙছে নাজুক বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করা সাগরের পানিতে ইউনিয়নের বাজারপাড়া, বহদ্দারপাড়া, শরতঘোনা, উত্তরপাড়ার শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ জানান, বেড়িবাঁধ সংস্কারে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কার্যাদেশ নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চরম অবহেলা করেছেন। এ কারণে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে মগনামা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, বেড়িবাঁধের সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের সময় পেরিয়ে গেছে। তাই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে সংস্কার কাজের মালামালও নিয়ে গেছেন। এতে মনে হচ্ছে এ বর্ষা মৌসুমেও মগনামার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সাগরের পানির কবলে পড়তে হবে।
পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) উম্মে কুলসুম মিনু বলেন, সামুদ্রিক জোয়ারের নোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় জনজীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষিকাজ এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত এ প্লাবনে অন্তত অর্ধশতাধিক চিংড়ি ঘেরের মাছ সাগরে ভেসে গেছে।
জানতে চাইলে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, মগনামা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ অধিকাংশ সংস্কার করা হয়ে গেছে। ব্লকও তৈরি করা হয়েছে। তবে সামান্য অংশ এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে। এটি দ্রুত সংস্কারে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
