আগে প্রতিদিন চারটির বেশি ট্রিপ দিতে পারতাম না, আজ সেখানে ছয়টি ট্রিপ দিয়েছি। রাস্তায় ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়া বাড়তি কোনো যানজটে পড়তে হয়নি। যাত্রী ওঠা-নামানোর জন্য যতটুকু সময় থামতে হয়। একটা ট্রিপ দিতে আগে যেখানে সময় লাগতো দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা, এখন লাগছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। রিকশা বন্ধ হওয়ায় এখন যানজট অনেক কমেছে। কথাগুলো বলছিলেন গাবতলী থেকে সদরঘাটগামী ৭ নম্বর পরিবহনের চালক ফয়সাল হোসেন। এয়ারপোর্ট থেকে সায়েদাবাদগামী রাইদা পরিবহনের চালক আকতার হোসেন বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে গাড়ি ছেড়ে আগে দুই ঘণ্টায়ও সায়েদাবাদ পৌঁছতে পারতাম না। তবে গত দুদিন ধরে ঘণ্টায় একটা ট্রিপ দিতে পারছি। মেট্রোরেলের কাজ চলায় ফার্মগেট, কাওরানবাজারে একটু সময় লাগছে। তবে রাস্তায় গাড়ির গতি বেড়েছে।
রাজধানীর তিন গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক কুড়িল-রামপুরা-সায়েদাবাদ, গাবতলী-আসাদগেট-আজিমপুর ও সায়েন্সল্যাব-শাহবাগ পরীক্ষামূলকভাবে রিকশা চলাচল বন্ধ থাকার কারণে গাড়ির গতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও সংশ্লিষ্টরা। পরিবহন চালকরা বলছেন, প্রধান সড়কে রিকশা না চললে গাড়ির গতি বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। কারণ রিকশার পেছনে থাকা সব গাড়ির গতি হয়ে যায় রিকশার সমান। ফলে যানজট সৃষ্টি হয়। ঘটে দুর্ঘটনা। আর রিকশা না থাকলে বেশি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব। এতে যাত্রীও বেশি পরিবহন করা যাবে। মানুষের ভোগান্তিও হবে না, সময়ও নষ্ট হবে না।
তবে বিকল্প ব্যবস্থা না করে রিকশা বন্ধে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রিকশা না পেয়ে স্বল্প দূরত্বে চলাচল করা যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। অন্যদিকে রিকশা চালকরাও প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। বিকল্প ব্যবস্থা না করে রিকশা বন্ধের এমন সিদ্ধান্তে রিকশা চালক ও যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, একটি আদর্শ শহরে সড়কে স্তরবিন্যাস থাকে। কোন সড়কে কোন ধরনের গাড়ি চলবে তা নির্ধারণ করা থাকে। এর মধ্যে প্রাইমারি রোডে গাড়ি গতিতে চলবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে প্রাইমারি রোডেও মিশ্র পরিবহন রোধ করতে হবে। তবে রোধ করার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করে নিতে হবে। নিরাপদ ফুটপাত এবং পর্যাপ্ত ট্রানজিট ও প্যারা ট্রানজিটের (ছোট গণপরিবহন) ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের সমস্যা হলো, যেসব রোডে রিকশা বন্ধ করা হয়েছে তাতে দীর্ঘদিন ধরে সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা নেই। এছাড়া যারা এসব রোডে চলাচল করেন তাদের একটা বড়ো অংশ রিকশায় অভ্যস্ত। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা না করে রিকশা বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে রিকশা চালকসহ যাত্রীরা।
