ওসি মোয়াজ্জেমকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৪

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিযুক্ত ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট। তবে তার আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে জামিন আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেন, ওসি কেন ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, উনিই যদি সবকিছু করেন তাহলে কোর্ট কেন আছে? ওসির কাজ ছিল জিডি নেওয়া, কিন্তু তা না করে ভিডিও করেছেন। যদি পুলিশ সময়মত প্রটেকশন বা অ্যাকশনে যেত তাহলে নুসরাতকে ঐ পরিণতি বরণ করতে হতো না। আদালত বলেন, আমাদের দেশে কিছু কিছু ওসি-ডিসি নিজেদের জমিদার মনে করেন। সবার কথা বলছি না, কিছু কিছু ওসি-ডিসি মনে করেন তারাই অল ইন অল (নিজেই সব)। আমাদের দেশে এগুলো বেশি হয়।

জামিন আবেদনের শুনানিতে ওসির আইনজীবী মো. আহসানউল্লাহ বলেন, এটি একটি ভিত্তিহীন মামলা। দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সে ভিডিও করেছে। সে একজন বয়স্ক, হার্টের রোগী ও কানে কম শোনেন। ওসির মোবাইল থেকে ভিডিওটি এক সাংবাদিকের হাতে চলে গেছে। সেখান থেকেই এটা ছড়িয়েছে বলে আশঙ্কা।

জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ওসি সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও মেয়েটির বক্তব্য ভিডিও করে তা ভাইরাল করেছে। যেসব প্রশ্ন নুসরাতকে করেছে তার কোনো প্রাসঙ্গিকতা ছিল না। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন দায়িত্বহীন কাজ আগে দেখিনি। তাকে যদি জামিন দেওয়া হয় তাহলে জনগণের কাছে কি বার্তা যাবে? যদি সে অসুস্থ হয়ে থাকে তাহলে জেল কর্তৃপক্ষ চিকিত্সার ব্যবস্থা করবে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ওসি বলতে পারত অভিযোগটা লিখে নিয়ে আস। আদালত বলেন, তখন যদি মেয়েটাকে প্রটেকশন দিত তাহলে তাকে মরতে হতো না।

ওসির আইনজীবী ভিডিওর বক্তব্যটি পড়ে শোনাতে চান। তিনি বলেন, ওসির করা প্রশ্নের মধ্যে কোনো অশ্লীল কিছু ছিল না। হাইকোর্ট বলেন, এগুলো এই আদালতে পড়ে শোনানোর দরকার নেই। ট্রাইব্যুনালে গিয়ে বলুন। আমরা জামিন দিচ্ছি না। আইনজীবী বলেন, পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ মামলা করা হয়েছে। আদালত বলেন, পুলিশ বাহিনী নয়, একজন ব্যক্তি জড়িত। এরপরই হাইকোর্ট জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়।

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদদ্দৌলা কর্তৃক ২৭ মার্চ যৌন হয়রানির শিকার হন নুসরাত জাহান রাফি। ঘটনার দিন ঐ অধ্যক্ষ, নুসরাত ও তার পরিবারের সদস্যদের সোনাগাজী থানায় ডেকে নেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে নিজ মোবাইলে নুসরাতের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে অন্যের মোবাইলে পাঠান। যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার পর ঐ ভিডিও ধারণের ঘটনায় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল সুমন।