১০৩ টাকায় কুমিল্লাতেও পুলিশে চাকরি পেলেন ৩০৭ জন

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ২২:৪২

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সদরের সাবের আহম্মেদের মেয়ে কাজল রেখা সোমা। হতদরিদ্র পরিবারে আট বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি পঞ্চম। পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা দিয়ে কুমিল্লা ইপিজেডের কর্মস্থল একটি গার্মেন্টসে চলে যান তিনি। এইচএসসি উত্তীর্ণ সোমা কর্মস্থল থেকে ছুটি না পাওয়ায় লিখিত পরীক্ষার ফলাফলও জানতে পারেননি। মৌখিক পরীক্ষার দিন উপস্থিত না দেখে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এক কর্মকর্তা সোমাকে মোবাইল ফোনে জেলা পুলিশ লাইন্সে ডেকে নেন। এরপর মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।

জেলার হোমনা উপজেলার নিলখী নয়াহাটি গ্রামের কোহিনূর আক্তারের চাকরি পাওয়ার গল্পটি আরো ভিন্নরকম। ২০১০ সালে সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন তার বাবা শহিদুল ইসলাম। চার ভাই, এক বোন ও মা নিয়ে তাদের অভাবের সংসার। টিউশনি করে যা পেতেন তা দিয়ে ছয় সদস্যের সংসারের হাল ধরেন কোহিনূর। শুধু কাজল রেখা কিংবা কোহিনূর নন, জেলা পুলিশে নিয়োগ পাওয়া ৩০৭ জনের মধ্যে অনেকের রয়েছে এমন আরো ব্যতিক্রমী গল্প।

মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সের শহীদ আরআই এবিএম আবদুল হালিম মিলনায়তনে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানে ১০৩ টাকায় চাকরি পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে চোখের পানি ফেলেন হতদরিদ্র পরিবারের নিয়োগ পাওয়া অনেকেই। ওই অনুষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্তদের বাবা-মা, পরিবারের সদস্য এবং নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ছাড়াও জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নগরীর বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দুর্নীতিকে ‘না’ বলে হাত তুলে সকলকে শপথবাক্য পাঠ করান পুলিশ সুপার।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্ত নিয়োগে ছেলেদের ১৭৩ জনের মধ্যে সাধারণ কোটায় ১১৫ জন, এতিম কোটা ২, আনসার ৩, পোষ্য ৭ ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৪৬ জন এবং মেয়েদের ১৩৪ জনের মধ্যে সাধারণ ১২৯, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩ জন, পোষ্য ও এতিম কোটায় ১ জন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ নিয়োগে চাকরি পেয়েছেন গার্মেন্টস কর্মী, দিনমজুর, সবজি বিক্রেতা, কৃষক, ভ্যান ও রিকশাচালকের সন্তানসহ ৩০৭ জন। এদিকে চাকরি পেয়ে হতদরিদ্র ওই পরিবারগুলোতে চলছে আনন্দের বন্যা। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম নিয়োগপ্রাপ্তদের ফুল দিয়ে বরণ করার পর তাদেরকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে হাত তুলে শপথবাক্য পাঠ করান।