ইসির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি সুজনের

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ২২:৪৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বলেছে, এ নির্বাচন অনিয়মের খনি, একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। এ নির্বাচনে ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে; যা কোনোক্রমেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। ৭৫টি আসনে ৫৮৭টি কেন্দ্রের সকল বৈধ ভোট একটি প্রতীকে পড়েছে। এর মধ্যে ৫৮৬টিতে সকল ভোট পেয়েছে নৌকা প্রতীক ও একটিতে পেয়েছে ধানের শীষ প্রতীক। চারটি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল ও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে অমিল রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধানে অস্বাভাবিকতা রয়েছে। ১ হাজার ২৮৫ কেন্দ্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা একটি ভোটও পাননি। অনেক কেন্দ্রে অস্বাভাবিকহারে বাতিল ভোট পড়েছে। ব্যালট পেপার ভোট নেওয়া কেন্দ্রগুলোর তুলনায় ইভিএম এ ভোটগ্রহণ করা কেন্দ্রগুলোতে কম ভোট পড়েছে। 

নির্বাচনের ফলাফলের এসব তথ্য তুলে ধরে সুজন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলর গঠন করার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচন আয়োজন না করারও কথা বলেছে। মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা আরো বলেছেন, ফলাফল প্রকাশে নির্বাচন কমিশন জালিয়াতি করেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মানুষের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এখন পুরোপুরি যদি ভেঙে যায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। প্রসঙ্গত গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বদিউল আলম মজুমদার নির্বাচনের অসংগতির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরে বলেন, এই তথ্যগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিঃসন্দেহে অনিয়মের খনি বলতে পারি। আমরা মনে করি, চরম অনিয়ম হয়েছে। এই সংবাদ সম্মেলন থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ থাকবে, তিনি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে এই অনিয়মের অভিযোগগুলো তদন্ত করে... যারা এর জন্য দায়ী বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন, তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মানুষের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, আজ যে তথ্য প্রকাশ করা হলো এগুলো সুজনের তথ্য না, কোনো রাজনৈতিক দলের তথ্যও না। এটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রদত্ত তথ্য।

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক নির্বাচন। এই কারচুপির নির্বাচন আয়োজনের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই।

কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, অতীতে বাংলাদেশে অনেক অস্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে, গোঁজামিলের নির্বাচন হয়েছে। এবারে নির্বাচন কমিশন গোঁজামিলে না গিয়ে তারা একেবারে ‘সোজামিলে’ চলে গেছে। এর আগে এ নির্বাচনকে ঘিরে নানা অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন সুজনের সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।