বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে চোখ হারাতে বসেছেন মেরাজ 

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৪, ২১:৫৪

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে চোখ হারাতে বসেছেন শিক্ষার্থী আল মেরাজ। ১৯ জুলাই রাজধানীর নয়াপল্টনে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। মেরাজ ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলোজি বিভাগের ছাত্র। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার চন্ডিপুর গ্রামে।

জানা যায়, ১৯ জুলাই নয়াপল্টন মোড়ে মিছিলে অংশ নিলে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও ছররা গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হন মেরাজ। পরে তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর চোখ থেকে একটি গুলি বের করা হয়। তবে এখনো আরেকটি গুলি চোখের ভিতরে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকেরা। 

গুলিবিদ্ধ মেরাজ এ প্রতিবেদককে জানান, শরীরে প্রায় ২০ থেকে ২২টি ছররাগুলি লেগেছিলো। এখনো চোখে খুব যন্ত্রণা হয়। রাতে ঘুমাতে পারি না। ৫ আগস্ট খুব কষ্ট করে পালিয়ে বাড়ি চলে এসেছি।

এ সময় আকুতি করে মেরাজ বলেন, আমি পৃথিবীর আলো দেখতে চাই, আমি বাচঁতে চাই। আমি কোন অন্যায় করিনি, আমার সঙ্গে কেনো এমন হলো? 

মেরাজের বাবা মো. শুকুর আলি জানান, আমার দুটি ছেলে-মেয়ে। ছেলেটাকে মানুষের মত মানুষ করতে ঢাকায় পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছিলাম। আল্লাহ আমার মুখের দিকে তাকালো না। আমরা কৃষক মানুষ। ছেলের চিকিৎসা করতে অনেক টাকা লাগবে। কোথায় পাব এতো টাকা, কে দিবে?   

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক প্রফেসর ডা. নেয়াজ রহমান জানিয়েছেন, মেরাজের চোখে এখনো বুলেট থাকতে পারে। সেগুলো বের করতে সময় লাগবে। কিন্তু চোখ দুটি আবার আগের অবস্থায় ফিরবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।  

ইত্তেফাক/এসএএস