বাংলাদেশের ক্রিকেট এগোবে কোন পথে?

  • ক্রিকেট উঠবে উন্নয়নের সড়কে, যেখানে টাইগার বাহিনী লড়াই করবে, ফারুকের আশা
  • অনিয়মের দানব ক্রিকেট থেকে সরিয়ে ফেলছেন ফারুক
  • হাথুরুসিংহে যেভাবে জেঁকে বসেছিলেন বাংলাদেশে, সেই সুযোগ আর থাকছে না
  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ০৯:২১

২৫ জুন, ২০২৪। এই তারিখের কথা অনেকে ভুলে গেলেও ঘটনা ভুলেননি কেউই এ দিন সকালে কোটি কোটি ভক্ত চেয়েছিলেন বাংলাদেশের পরিসংখ্যান মেলাতে টাইগারবাহিনীর কেবল জয় নয়, পরিসংখ্যান মেলানোর আশায় বসে ছিলেন তারা।

কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে নাজমুল হোসেন শস্তরা পরিসংখ্যান মেলানো তো দূরের কথা, জয়ই তুলে নিতে পারেননি সেদিন ভক্তদের ক্ষোতে বিদ্ধ হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদসহ দলের অনেকে। প্রশ্ন উঠেছিল কোচ চাণ্ডিকা হাথুরুসিংহে ও ক্রিকেটারদের মানসিকতা নিয়েও। তার পরে পৃথিবী নিজ অক্ষের ওপরে অনেক বার ঘুরেছে। তৎকালীন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ইনিয়ে-বিনিয়ে সেই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রেক্ষাপটের বদল হয়নি। বাংলাদেশের ক্রিকেট 'অটিয়ে যাওয়া মানসিকতা থেকে এখনো বের হতে পারেনি।

সময়ের বর্তমানে পাপন নেই সভাপতির চেয়ারে। সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বচক ফারুক আহমেদ এখন বিসিবির সভাপতি। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি এই বিষয়ে দৃষ্টি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট যা নিয়ে ভুগছে, সেখানেই নজর রেখেছেন সভাপতি ফারুক। তিনি চেয়েছেন, এক-দুইটি ম্যাচ বা কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচে জয় তুলে নেওয়ার চেয়ে এমন ধরনের ক্রিকেট হবে, যেখানে জয়েয়র থেকে গুরুত্ব পাবে লড়াই। ক্রিকেটাররা লড়াই করতে করতে এক সময় জয়ের দেখা পাবে। এটি করতে গিয়ে পরপর কয়েক ম্যাচে হারলেও সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন ফারুক।

দলের শীর্ষ জায়গা থেকে অল্পতেই তৃপ্তির ঢেকুর তোলার সংস্কৃতি বাজেভাবে ভূগিয়েছে বাংলাদেশকে। গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেরা আটে যাওয়ার পরে কোচ হাথুরু বলেছিলেন, ‘এবার যাই পাব সেটা আমাদের জন্য হবে বোনাস।’ গুরুর জায়গা থেকে এমন কথা বলার পরে শিষ্যরা যেন খেলাটাই ভুলে গিয়েছিলেন। টুর্নমেন্টটিতে আর একটি ম্যাচেও বাংলাদেশ জয় তুলে নিতে পারেনি। সেই কোচকে নিয়ে ফারুকের বার্তা, 'আমি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছি, আমাদের আর্থিক ক্ষতি হোক যেন ক্রিকেটে ক্ষতি না হয়।' অর্থাৎ হাথুরু অধ্যায় থেকে বের হয়ে তিনি নতুন ক্রিকেটের স্বপ্ন দেখছেন সেখানে হাথুরুর জন্য আর্থিক ক্ষতি হলেও দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে চর স্বার্থে মেনে নেবেন সব। এছাড়া হাথুরু তার চারপাশে যেসব সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন সেগুলোর বিষয়ে বিসিবির নতুন সভাপতি বলেছেন, 'আমি যতদিন আছি চেষ্টা করব এই ধরনের কাজ যেন না হয়।

পাপনের আমলে স্বকিছু ছিল যেন পাপনকে ঘিরেই। পান থেকে চুন খসলেই পাপনের দ্বারস্থ হতেন সকলে। সেই সুযোগ আর থাকছে না। ফারুকের কণ্ঠে, 'কার কী দায়িত্ব, কে কোথায় যাবে, অভিযোগ আছে কেচ সরাসরি চলে যায় সভাপতির কাছে। এই রাস্তাটা আমার কাছে থাকবে না। যে বিভাগের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তাদের হয়ে আসতে হবে। যদি কোনো জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেটি আলাদা কিন্তু স্বাভাবিকয়বে কিছু হলে সবাইকে পাশ কাটিয়ে ওয়ান ওয়ে ট্রাফিকে চলে গেলেন, সেটির সম্ভাবনা খুব কম।'

অতীতে দেখা গেছে বড় বড় দলগুলো যখন বাংলাদেশে মেলতে এসেছে, বিশেষ করে মিরপুরে সে সময়ে টাইগারদের বিপক্ষে নাকানিচুবানি খেয়েছে তারা। তার'। অথচ দেশের বাহিরে সেই দলগুলোর বিপক্ষেই দাঁড়াতেও পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তাতে দিনের মতো
পরিষ্কার ছিল, যেভাবেই মোক জয়ের দিকে নজর ছিল বাংলাদেশের। সেটি হয়েছে কথনো নিজেদের মতো উইকেট বানিয়ে, কখনো বিভিন্ন সুবিধা কাজে লাগিয়ে। এবার সেগুলো চান না বিসিবি সভাপতি। আবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ কিংবা টুর্নামেন্টের অংণে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি হতো অতীতে, সেগুলোরও অবসান চেয়েছেন তিনি।

সুষ্ঠু ক্রিকেটের পরিবেশ তৈরি করতে বিসিবি থেকে অনিয়মের দানব সরানোর বিষয়ে কথা বলেছেন, 'অনেক অনিয়ম হয়েছে, আমি আছি। এগুলো নিয়ে আমিও চিন্তা- ভাবনা করি। চেষ্টা থাকবে, সব কজ একদিনে সম্ভব না। ১২ বছর ধরে একটা প্রক্রিয়া চলে আসছে। এইটকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে করতে এক সময় ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন (উপন্যাসে উল্লেখিত দানব চরিত্র) হয়ে গেছে সব। সুতরাং রাতারাতি এটা পরিবর্তন সম্ভব নয়। চেষ্টা করব প্রতিটি সেক্টরেই কাজ করতে, তবে পরিচালক কম থাকায় যেগুলো সরাসরি ক্রিকেটকে প্রভাবিত করে সেই কাজগুলোতে সবার আগে হাত দিতে চাই।'

তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশ থেকে স্বৈরাচার উৎখাতে যেভাবে লড়াই করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, তাতে কেউ ঘরে বসে থাকতে পারেননি। দলে বলে সকলে বের হয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন সেই আওয়াজ ক্রিকেট মাঠ থেকে টাইগারবাহিনীও তুলুক, এমনট'ই চান সকলে। ক্রিকেটাররা লড়াই করার আগে হরের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসুক, এমনই প্রত্যাশা। সেই প্রজন্মকে নতুন সভাপতি বলতে চান, অতীতের মতে। আর বাংলাদেশের ক্রিকেট চলবে না। নতুন বাংলাদেশের ক্রিকেটে থাকবে সাহসিকতার গল্প, লড়াইয়ের গল্প।

ইত্তেফাক/এএম