মাদ্রাসায় যাওয়ার পর চার দিন ধরে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না সাদিয়ার। যে মাদ্রাসায় সে পড়াশোনা করতো তার নিচতলা পুরোপুরি ডুবে যাওয়ায় ও আশপাশে পানি উঠায় মেয়েকে খুঁজতে যেতে পারেননি বাবা সাইফুল ইসলাম। এ সময় শিক্ষকদের মুঠোফোনও বন্ধ পান তিনি।
রোববার (২৫ আগস্ট) পানি নেমে যাওয়ার পর সাইফুল আসেন ফেনী সদরের লালপোল এলাকাসংলগ্ন মাদ্রাসায়। একটা নৌকায় চড়ে মাদ্রাসায় গিয়ে মেয়েকে খুঁজে পান। টেনে নেন বুকে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সাইফুল।
গণমাধ্যমকে সাইফুল বলেন, মেয়ের জন্য মায়ের কান্না থামছে না। মেয়ে কীভাবে আছে, কী খাচ্ছে, তা জানা ছিল না। অবশেষে খুঁজে পেলাম তাকে।
তিনি আরও বলেন, আমার ৩ মেয়ে। বাড়িঘর পুরো ডুবে গেছে। অন্যের জমিতে খেটে মেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছি। ছোট মেয়ে সাদিয়া ওই মাদ্রাসার হেফজ শাখায় পড়ে।
বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় সাইফুলের পরিবার চার দিন আগে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে উঠেছে। সেখানে গত দুই দিন ত্রাণের খাবার খেয়েছেন। খাবারের মধ্যে ছিল বিস্কুট, মুড়ি, চিড়া। তার মেয়ে সাদিয়াও গত চার দিন মাদ্রাসায় শিক্ষকদের কাছে ছিল। সেখানে ত্রাণের খাবার খেয়েছে সে।
সাইফুলের বাড়ি ফেনী দাদের পোল এলাকায়। তিনি জানান, গ্রামের অবস্থা ভালো নয়। রাস্তাঘাট আগে থেকেই ভাঙাচোরা ছিল। বন্যার কারণে আরও খারাপ অবস্থা হবে।
