মনোহরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি 

‘মহাসড়ক দিয়ে ত্রাণের গাড়ি আসে আবার মহাসড়ক দিয়েই ফিরে যায়, মনোহরগঞ্জে পৌঁছায় না’

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৪, ০০:৪১

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ভোগান্তি বাড়ছে পানিবন্দী মানুষের। একতলা বিশিষ্ট কিছু আশ্রয় কেন্দ্রেও ঢুকেছে পানি। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হলে তারা আক্ষেপ করে বলেন, ত্রাণের গাড়ি ঢাকা থেকে ছাড়ে কিন্তু মনোহরগঞ্জ এসে পৌঁছায় না। ঢাকা থেকে যারাই ত্রাণ সহায়তা নিয়ে কুমিল্লা আসছে, কাছাকাছি স্পটগুলোতে আসতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে ত্রাণ। প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। মহাসড়ক দিয়ে ত্রাণের গাড়ি আসে আবার মহাসড়ক দিয়েই ফিরে যায় কিন্তু মনোহরগঞ্জে পৌঁছায় না। 

বাড়ছে বন্যার পানি, বাড়ছে জনদুর্ভোগ। ছবি: ইত্তেফাক

এবারের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন। চারিদিকে শুধু হাহাকার। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছে অনেকেই। নলকূপ ডুবে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও চাহিদার তুলনায় তা একবারেই অপ্রতুল। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের অধিকাংশ সড়ক, মাছের ঘের, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ধর্মীয় উপাসনালয় বন্যার পানিতে তলিয়ে হয়ে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। মানুষের পাশাপাশি উপজেলা সদরের মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে গবাদি পশু। এমন পরিস্থিতিতে তীব্র গোখাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে কিছু আশ্রয়কেন্দ্রে পানি ঢুকে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তীর্থের কাকের মত ত্রাণের দিকে তাকিয়ে আছে এ এলাকার পানিবন্দী হাজার হাজার পরিবার। 

মানুষের সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই হয়েছে গবাদিপশুর। ছবিটি মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তোলা। ছবি: ইত্তেফাক

উপজেলার সরসপুর ইউপির বাসিন্দা আবদুল মজিদ ভূইয়া বলেন, উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত ইউনিয়ন সরসপুর। এ পর্যন্ত এখানে সরকারিভাবে যে ত্রাণ সামগ্রী এসেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। 

এ বিষয়ে কথা হলে সংবাদকর্মী আহমেদ উল্ল্যা জানান, বৃষ্টি বন্ধ না হওয়ায় ক্রমাগত পানি বাড়ছেই। চলমান পরিস্থিতে বৃষ্টি আরও বেশি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই হচ্ছে না মানুষের। নারী-পুরুষ, শিশুরা গাদাগাদি করে বাধ্য হয়ে কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন। গবাদি পশু নিয়ে এখানকার মানুষ পড়েছেন বিপাকে। অনেকে বিক্রি করতে চাইলেও পারছেন না। 

উপজেলার হাসনাবাদ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মুনাফের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে এবারের বন্যার পানি। গত এক সপ্তাহ ধরে এ এলাকার পানিবন্দীদের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। 

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজালা রানী চাকমা ত্রাণের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ইত্তেফাককে বলেন, ক্রমশই পানি বাড়ছে। সমভাবে সব জায়গায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে উপজেলার অধিকাংশ রাস্তাই বর্তমানে পানির নিচে। নৌকা ছাড়া কোনো এলাকায় যাওয়া যাচ্ছে না। সব এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ সময় তিনি এলাকার বিত্তবানদের এগিয়ে এসে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।  
                                                   
                                                                                                                                                          
  

 

ইত্তেফাক/এসএএস