রিজিয়া পারভীন, সহকারী শিক্ষক ( বাংলা )
কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
গাজীপুর।
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা,বাংলা বানান চর্চায় ভাষাকে শুদ্ধভাবে জানা ও লেখা আমাদের যেমন কর্তব্য তেমনি এর সঠিক ব্যবহার আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও আমাদেরই । কোনো ভাষার বাক্য প্রবাহকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে আমরা কতগুলো মৌলিক ধ্বনি পাই। বাংলা ভাষাতেও কতগুলো মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। বাংলা ভাষার মৌলিক ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ‘স্বরধ্বনি’ ও ‘ব্যঞ্জনধ্বনি’।
আমরা জানি, ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে বর্ণ বলে।
সেমতে, আমরা স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিতরূপকে বলবো যথাক্রমে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ।
স্বরবর্ণ ১১টি আর ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি। এর মধ্যে অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ (আট) টি। এটা তোমরা সহজে মনে রাখতে পারো কেননা অ এর পরে আ ধ্বনি আসে। আবার অর্ধ বানানে অ আসে আর আট বানানে আ আসে। অর্থাত্ অর্ধমাত্রা = আটটি (০৮)। মাত্রাহীন বর্ণ আছে দশটি (১০), পূর্ণমাত্রার বর্ণ আছে = ৩২ টি। এই মোট -৫০টি।
বন্ধুরা, আমরা জানি স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্তরূপকে বলা হয় ‘কার’ । এগারোটি স্বরবর্ণের মধ্যে ‘কার’ চিহ্ন আছে ১০ টির। ‘অ’ বর্ণটির কোনো সংক্ষিপ্তরূপ নেই।
‘অ’ কে নিলীন বর্ণ বলা হয়। নিলীন শব্দের অর্থ হচ্ছে বিলীন বা নিমগ্ন থাকা। ‘অ’ যখন কোনো ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত থাকে তখন তা ঐ ব্যঞ্জনের ভেতরে বিলীন/একাকার হয়ে থাকে। অর্থাত্ কোনো শারীরিক অস্তিত্ব
( physical Existence ) থাকে না। যেমন: ক = ক+অ, খ = খ+অ,
কথা= ক+অ+থ+আ কার ইত্যাদি।
‘অ’ বর্ণটি ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণে সহায়তা করে থাকে। যেমন: ক + অ = ক। যেসব ক্ষেত্রে অ ধ্বনি ব্যবহূত হয় না সেসব ক্ষেত্রে উক্ত বর্ণের নিচে হস্ বা হল্( ো) চিহ্ন বসে। যেমন: কর্, পড়্। এখানে আমরা কর, (করো) পড়
( পড়ো) বলবো না।
আ-কার এবং ঈ-কার ব্যঞ্জনবর্ণের পরে যুক্ত হয়। ই-কার, এ-কার এবং ঐ-কার ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে যুক্ত হয়। উ-কার, ঊ-কার এবং ঋ-কার ব্যঞ্জনবর্ণের নিচে যুক্ত হয়। ও-কার এবং ঔ-কার ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে এবং পরে দুই দিকে যুক্ত হয়।
উদাহরণ: বানান, কীর্তি, কিরণ, কেশ, কৈ, ভুল, ভূত, কৃপণ, কোণ, কৌশল।
আবার বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় “ফলা ”।
আর ফলা মনে রাখার জন্য যদি আমরা এই ছন্দটি ব্যবহার করি তো কেমন হয়-
“ মজার লবণ “
ম - ম ফলা - গ্রীষ্ম, পদ্মা।
জ - য ফলা - ব্যাকরণ, ব্যাগ।
র - র ফলা - আম্র, ত্রাণ।
ল - ল ফলা - অম্ল, ক্লান্ত।
ব - ব ফলা - তত্ত্ব, আশ্বাস, জ্বি।
ণ - ণ/ন ফলা - চিহ্ন, মধ্যাহ্ন,পূর্বাহ অপরাহ।
পরের অংশ আগামী শনিবার
