কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্মরণকালের বন্যা ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে মৎস্য চাষিদের স্বপ্ন। উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ১০০টি পুকুর ও দিঘি প্লাবিত হয়েছে।
মৎস্য চাষিরা জানান, এলাকার বেশির ভাগ মৎস্য চাষি ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন নিয়ে এ ব্যবসা করেছেন, আবার অনেকে নিকটতম আত্মীয় স্বজন থেকে দায়দেনা করেও এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এমন ভয়াবহ বন্যা নিঃস্ব হয়ে পথে বসতে হবে এটা কখনও স্বপ্নেও ভাবেনি মাছ চাষিরা।
মায়ের দোয়া মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী আবু তাহের বলেন, ‘বন্যার পানিতে ভেসে গেছে আমার প্রায় ৯০ লাখ টাকার মাছ। ব্যাংক লোন করে প্রায় দুই কোটি টাকা মাছ চাষে ব্যয় করেছি। এ বন্যায় কেড়ে নিয়েছে আমার সর্বস্ব। এখন কীভাবে ব্যাংক লোন শোধ করবো কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’
মৎস্য চাষি মাহফুজ বলেন, ‘মাছ চাষের পাশাপাশি মাছের খাদ্য ব্যবসা করছিলাম। এলাকার অনেক মাছ চাষির পুকুর-দিঘি পানিতে ভেসে গেছে। এরা এখন আমার পাওনা টাকা কি করে শোধ করবে। তাই ব্যাংক লোন ও কোম্পানি টাকা নিয়ে খুব হতাশার মধ্যে আছি। সরকার যদি মৎস্য চাষিদের একটু সহযোগিতা করে তাহলে হয়তো আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।’
মৎস্য চাষি জালাল পাটোয়ারী বলেন, ‘বন্যায় আমার প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। কেড়ে নিয়েছে আমার পরিবারের স্বপ্ন। মাছ চাষের পেছনে আমার কাছে যতটুকু অর্থ ছিল সব ব্যয় করেছি। পাশাপাশি আত্মীয় স্বজনদের থেকে ধার-দেনা করেছি ২০ লাখ টাকা। এ বন্যা জীবনটা লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবো কি না আল্লাহ ভালো জানেন।’
উপজেলা মৎস্য অফিসার শেফাউল আলম জানান, উপজেলা মৎস্য চাষি ও খামারিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর পরিসংখ্যান মতে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বন্যায় প্লাবিত হয়েছে ২ হাজার ১০০টি পুকুর। এসব জলাশয়ের আয়তন ১৮৩৫ হেক্টর। জলাশয় থেকে ২৬০০ মেট্রিক টন মাছ ও ৪৫০ মেট্রিক টন পোনা মাছ প্লাবিত হয়েছে। এতে মৎস্য খামারিদের ক্ষতি হয়েছে ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মৎস্য চাষিদের ক্ষতি নিরসনে মাঠ পর্যায়ে নিরলসভাবে মৎস্য অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।
