জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:০২

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান ১ম পত্রের প্রথম অধ্যায়ের কোষ ও এর গঠন -বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করা হলো, যা ২০১৭ সালের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় সকল বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সৃজনশীল প্রশ্ন :

উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষে একটি ক্ষুদ্রাঙ্গ আছে, যাকে শক্তি ঘর (Power house of cell) বলা হয়। উক্ত ক্ষুদ্রাঙ্গটি ছাড়া প্রাণীকোষ ও উদ্ভিদকোষ কর্মক্ষমহীনও বটে।

(ক) অটোফেগী কী ?                                                                     ১

(খ) কোন ক্ষুদ্রাঙ্গকে প্রোটিন তৈরির কারখানা বলে ? এটি কয়টি অংশ নিয়ে গঠিত ?                                                                                    ২

(গ) উদ্দীপকের ক্ষুদ্রাঙ্গটি ছাড়া জীবকোষ কর্মক্ষমহীন- ব্যাখ্যা কর।           ৩

(ঘ) উক্ত ক্ষুদ্রাঙ্গটিকে কেন কোষের শক্তিঘর বলা হয়?-তা বিশ্লেষণ কর।     ৪

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ঃ

(ক) উত্তর :

স্ব-গ্রাস বা অটোফেগী (autophagy) : লাইসোজোম পরিপাক কাজকে তরান্বিত করে থাকে। তীব্র খাদ্যাভাবের সময় এর প্রাচীর ফেটে যায় এবং আবদ্ধকৃত এনজাইম বের হয়ে কোষের অন্যান্য ক্ষুদ্রাঙ্গকে বিনষ্ট করে দেয়। আর এ কাজকে স্ব-গ্রাস বা অটোফেগী (autophagy) বলে।

(খ) উত্তর : রাইবোজোম (Ribosome) কে প্রোটিন তৈরির কারখানা বলা হয়। এর কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা।

আকার ও সেডিমেন্টেশন সহগ (কো- এফিসিয়েন্ট) হিসেবে রাইবোজোম মূলত:70s এবং 80s দু’প্রকার। 70s রাইবোজোম 50s এবং 30s এই দুই সাব- ইউনিটে বিভক্ত।  80s রাইবোজোম 60s এবং 40s এই দুই সাব- ইউনিটে বিভক্ত থাকে।

(গ) উত্তর : উদ্দীপকের আলোচিত অঙ্গাণুটি হলো Mitochondia । এটি জীবদেহের তথা কোষের অত্যাবশকীয় একটি অঙ্গাণুও বটে। এতে রয়েছে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি এসিড চক্র, Electron Transport System (ETS) । এর মাধ্যমে শ্বসনের সকল কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। আর এই শ্বসনের মাধ্যমেই জীবদেহে শক্তি (Power) উত্পন্ন হয়। যেহেতু মাইটোকন্ড্রিয়া ব্যতীত কোষে শক্তি উত্পাদন সম্ভব নয় সেহেতু এ অঙ্গাণুটি ছাড়া কোষ কর্মক্ষমহীন অর্থাত্ এটি ছাড়া কোষের সকল  জৈবনিক কাজ ব্যাহত হয়। এরা বেশ কিছু DNA ও RNA উত্পাদনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধিতে অংশ নেয়। এটি না থাকলে জীবদেহে বংশবৃদ্ধি এবং প্রকরণ (Variation) সৃষ্টি অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এছাড়াও এ অঙ্গাণুটি বিভিন্ন প্রকারের এনজাইম ও কো- এনজাইম উত্পন্ন করে থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়া প্রোটিন সংশ্লেষণের প্রয়োজনীয় এনজাইম ধারণ করে থাকে। এটি প্রয়োজনে Cell এর সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটিয়ে কাজে সহায়তাএবং স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ  করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, মাইটোকন্ড্রিয়া ছাড়া জীবকোষের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়ে কোষ নিস্তেজ অর্থাত্ প্রাণহীন মৃত হয়ে পড়বে। আর কোষর স্বাভাবিক কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে গেলে এক সময় জীবের মৃত্যু ঘটবে। এজন্য মাটোকন্ড্রিয়া ছাড়া জীবকোষের অর্থাত্ সকল জীবদেহের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।

(ঘ) উত্তর : যে ক্ষুদ্রাঙ্গটি উভয় কোষে অর্থাত্ উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষে পাওয়া যায় সেটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। কোষের সাইটোপ্লাজমে এর অবস্থান। এটি জীবদেহের তথা কোষের অত্যাবশকীয় একটি অঙ্গাণুও বটে। এতে রয়েছে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি এসিড চক্র, Electron Transport System (ETS) । এর মাধ্যমে শ্বসনের সকল কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। আর এই শ্বসনের মাধ্যমেই জীবদেহে শক্তি (Power) উত্পন্ন হয়। মাইটোকন্ড্রিয়া কোষে শক্তি উত্পাদন করে, সেহেতু এ অঙ্গাণুটিকে জৈবিক শক্তি ঘর (Biological power house) বলা হয় অর্থাত্ এটি কোষের সকল  জৈবনিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এরা বেশ কিছু DNA ও RNA উত্পাদনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধিতে অংশ নেয়। এটি ছাড়া জীবদেহে বংশবৃদ্ধি এবং প্রকরণ (Variation) সৃষ্টি সম্ভব নয়।

এছাড়াও এ অঙ্গাণুটি বিভিন্ন প্রকারের এনজাইম ও কো- এনজাইম উত্পন্ন করে থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়া প্রোটিন সংশ্লেষণের প্রয়োজনীয় এনজাইম ধারণ করে থাকে। এটি প্রয়োজনে Cell এর সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটিয়ে কাজে সহায়তা এবং স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ  করে। আর এসকল কারণেই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর (Power house of cell) বলা হয়।