অপহরণের পর শিশু ধর্ষণ মামলা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
জেলার করিমগঞ্জের চাঞ্চল্যকর শিশু অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় ধর্ষণের দায়ে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাছাড়াও অপহরণের দায়ে আসামিদের প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের একনম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কিরণ শংকর হালদার আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: সুমন, ফারুক, রুমন ও হেলাল। তাদের সকলের বাড়ি করিমগঞ্জ পৌরসভার আশুতিয়াপাড়া গ্রামে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ মে রাতে করিমগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন মাকে দেখে পিতা ও চাচার সঙ্গে রিকশায় করে তাড়াইল উপজেলার সিংধা করাতি গ্রামে বাড়ি ফিরছিল গণধর্ষণের শিকার ঐ শিশু (১১)। তাদের রিকশাটি করিমগঞ্জ উপজেলার রামনগর শাহআলী মাজার এলাকায় পৌঁছালে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে আসা আসামিরা তার পিতা-মাতা ও রিকশাচালককে মারপিট করে অস্ত্রের মুখে শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। শেষরাতের দিকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর মেয়েটিকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় সেলঙ্গা ব্রিজের পাশে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে মেয়েটির পিতা বাদী হয়ে চারজনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো চার/পাঁচজনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তশেষে মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
