পেটে সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়ি থাকলে সাংসারিক কাজ করা লাগতে পারে। এতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে অনাগত সন্তানের জীবন। তাই সন্তানের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে কয়েকদিন আগে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা আরিফা বেগম (২০)। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পৃথিবীর আলো দেখাতে পারলেন না সেই সন্তানকে। মৃত সন্তান প্রসব করেছেন তিনি। গ্রাম্য বিরোধের প্রতিপক্ষের লোকের লাথির আঘাতের পর আরিফা মৃত সন্তান প্রসব করেছেন, এমন অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের গোপালিয়া গ্রামে। আরিফা ওই গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের মেয়ে ও পাশের রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া গ্রামের শওকত মোল্যার স্ত্রী।
আরিফার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, একটি হত্যার ঘটনার প্রতিশোধ নিতে আরিফার বাবার বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাট করে গ্রামের প্রতিপক্ষ। এ সময় গর্ভবতী আরিফা তাদের ঠেকাতে গেলে একজন তার পেটে লাথি মারে। এতে রক্তক্ষরণ হয়ে আরিফার মৃত সন্তানের জন্ম হয়। তবে প্রতিপক্ষের লোকজনের দাবি তাদের ফাঁসানোর জন্য এমন কথা বলা হচ্ছে।
সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান বাবু বলেন, আরিফার বাবার বাড়ির লোকজনের হামলায় আহত হয়ে গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গোপালিয়া গ্রামের মুদি দোকানি ইয়ার আলী শেখ। তার মৃত্যুর পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান আরিফার বাবার বাড়ির লোকজন। এই সুযোগে বাদীপক্ষও তাদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, শুনেছি বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আরিফার বাবা জাহাঙ্গীরের বাড়ি ভাঙতে আসে বাদীপক্ষের লোকজন। তখন আরিফা বাঁধা দিলে হামলাকারীদের একজন তার গলা টিপে ধরে পেটে লাথি মারে। এতে আরিফার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নিতেও বাধা দেয়া হয় হামলাকারীরা। একপর্যায় বাবার বাড়িতেই মৃত সন্তানের জন্ম দেন আরিফা। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামের লোকজন এসে শুক্রবার সকালে আরিফাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তবে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বাদীপক্ষের মো. আইয়ুব আলী মাস্টার বলেন, আরিফাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। এমনিতেই তার গর্ভপাত হয়েছে। এটাকে পুঁজি করে আসামিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। একটি হত্যকাণ্ডের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে নাটক সাজানো হচ্ছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ ফায়েজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। তবে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই গ্রামে একটি মার্ডার হয়েছে। মার্ডারের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষে এমন অভিযোগ আনা হচ্ছে কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
