শ্রীলঙ্কা সফর
স্পোর্টস রিপোর্টার
বিশ্বকাপের ব্যর্থ মিশন শেষে দেশে ফিরে বিশ্রামে রয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। এর মাঝেই বাংলাদেশ দলের কোচিং প্যানেলে বড়োসড়ো রদবদল হয়ে গেল। হেড কোচ স্টিভ রোডসের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গেও চুক্তি নবায়ন করছে না বিসিবি। একই তালিকায় আছেন ফিজিও তিহান চন্দ্রমোহন। যোগ হতে পারে স্পিন কোচ সুনীল যোশি, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকের নামও।
বাংলাদেশ দলের কোচিং প্যানেলে পরিবর্তন হাওয়া বয়ে গেলেও দরজায় কড়া নাড়ছে শ্রীলঙ্কা সফর। তিন ওয়ানডে খেলতে আগামী ২০ জুলাই কলম্বোগামী বিমানে চড়ার কথা বাংলাদেশ দলের। এই সফরের আগে নতুন হেড কোচ পাওয়া কঠিনই বিসিবির জন্য। বিসিবি পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনের হাতেই ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হতে পারে শ্রীলঙ্কা সফরে।
ইতিমধ্যে লঙ্কা সফরের জন্য দল গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন নির্বাচকরা। ইতিমধ্যে প্রাথমিক একটা দল প্রস্তুত করেছেন তারা। এই সিরিজে সাকিব আল হাসান ও লিটন কুমার দাসের না খেলা প্রায় নিশ্চিত। গতকাল বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সাকিব মৌখিকভাবে এই সিরিজে না খেলার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। লন্ডন থেকে তিনি দেশে ফিরতে পারেন আগামী ২৭ জুলাই। তারপর হজব্রত পালনে যাওয়ার কথা রয়েছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের। আর বিয়ের কারণে লিটন দাস যাবেন না শ্রীলঙ্কায়।
তাদের অনুপস্থিতিতে অবশ্য জাতীয় দলে বড়ো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। গতকাল সূত্র জানায়, ওয়ানডে দলে ফিরতে পারেন ইয়াসির আলী রাব্বি ও বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি রাব্বির। বিসিবি একাদশের হয়ে ভারতের কর্ণাটকে মিনি রঞ্জি ট্রফি খেলতে যাওয়া এই তরুণ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে পাঠানো হবে শ্রীলঙ্কায়।
আর সাকিব না থাকলে বাঁহাতি স্পিনারের কোটায় দলে ডাক পেতে পারেন নাজমুল ইসলাম অপু। গত বছর এশিয়া কাপে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন অপু। চলতি বছরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পর থেকে খেলার বাইরে আছেন তিনি। অবশ্য নির্বাচকদের বিবেচনায় আছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামও। অপু লম্বা সময় প্রতিযোগিতা মূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকায় কর্ণাটকে খেলতে যাওয়া তাইজুলের ডাক পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এদিকে লিটন দাস না থাকলেও তিন ওয়ানডের জন্য দলে তৃতীয় ওপেনার নিতে নারাজ নির্বাচকরা। তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের ওপরই আস্থা রাখতে চান তারা। তাই ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়দের কপাল খুলছে না এই সিরিজেও।
জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত সাকিব না খেললে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ের গুরুভার উঠতে পারে মোহাম্মদ মিঠুনের কাঁধে। বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন মিঠুন। মিডল অর্ডারে তিনি বড়ো স্কোর না পাওয়ায় একাদশে ঢুকে পড়েছিলেন লিটন দাস। পরে আর সুযোগ পাননি মিঠুন। ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে দলে মিঠুনের জায়গা অনেকটা পাকাই ছিল। তবে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের কারণে তা কিছুটা নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। শ্রীলঙ্কা সফর তাই অভিজ্ঞ মিঠুনের জন্য নিজেকে প্রমাণের আরেকটি বড়ো সুযোগ হতে পারে।
এছাড়া বাকি দলটা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বিশ্বকাপে খেলা বেশিরভাগ ক্রিকেটারই যাবেন লঙ্কা সফরে।
