দেশের সর্ববৃহৎ ও বহুমুখী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানীদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ বিজ্ঞানীরা। বিগত ২০ বছর ধরে দেশের এই সর্বোচ্চ পর্যায়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিতে বাহির থেকে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে করে গবেষণা কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হয়েছে।
গত ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর এবার বিসিএসআইআর প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা নড়েচড়ে বসেছেন। তাদের একটাই দাবি, চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রতিষ্ঠানটি থেকে যোগ্যতা সম্পন্ন বিজ্ঞানীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হোক।
এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নুরুল হুদা ভূঁইয়া ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ড. হোসেন সোহরাবের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাত করে তাদের এই দাবি তুলে ধরেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো মন দিয়ে শোনেন এবং তাদেরকে আশ্বাস দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিসিএসআইআর আইন ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৮) এর ৪ (৪) ধারা অনুযায়ি বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও বিজ্ঞান গবেষক এবং স্ব স্ব বিশেষজ্ঞ-জ্ঞানের ক্ষেত্রে স্বনামধন্য বা সরকারের বিবেচনায় পরিষদের কার্যবলির সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কোন বিষয়ে ২০ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি বোর্ডের চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসেবে নিয়োগ লাভের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এই নিয়ম অনুযায়ি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টার কাছে বিসিএসআইআরে কর্মরত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে একাধিক বিজ্ঞানীদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিসিএসআইআরের একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হওয়ার মতো আর্ন্তজাতিক খ্যাতি ও যোগ্যতাসম্পন্ন একাধিক বিজ্ঞানী কর্মরত রয়েছেন। তাদের দেশে বিদেশে বিজ্ঞানী হিসেবে সুনাম রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক জার্নালে শতাধিক প্রকাশনাও রয়েছে। এছাড়া তিনি ২০-২৫ বছর বা আরো অধিককাল কর্মরত থাকার কারণে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে অত্যন্ত ওয়াকিবহাল থাকেন। বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণায় নিয়োজিত থাকার কারণে একজন বিজ্ঞানী দেশের শিল্প-কারখানাসমূহের সমস্যাবলি সমাধানের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পায়নে ভ‚মিকা রাখতে পারবেন।
আরেকজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ ২০০৮ সালে বিসিএসআইআর-এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম আকরাম হোসেন চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পান। তার দায়িত্ব পালনের পর থেকে বিগত ১৫ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটিতে বাহির থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে আসছিল বিগত সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর বিগত সরকারের নিয়োগকৃত চেয়ারম্যান ড. মো. আফতাব আলী শেখ পদত্যাগ করেন। এখন যদি আবারও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে বাহির থেকে অবিজ্ঞানীদের মধ্য থেকে কাউকে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নিয়োগ দেয়া হলে বিসিএসআইআর প্রতিষ্ঠানটিতে শিল্প গবেষণার কাজ মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।
