যক্ষ্মামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে নারী মৈত্রী

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৫:৪১

বাংলাদেশ অন্যতম যক্ষ্মা ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বিশ্বের ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে প্রতি লাখে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা ২২১ জন, যা বিশ্বে ৩.৬%। মৃত্যুর হার প্রতি লাখে ২৪ জন। বড়দের পাশাপাশি শিশুদেরও যক্ষ্মার জীবাণু দ্বারা সংক্রমণের হার ক্রমাগত বাড়ছে। শিশুরা নিজেদের সমস্যার কথা বুঝিয়ে বলতে পারে না তাই প্রায়শই তাদের ক্ষেত্রে এই রোগটি নির্ণয় করতে দেরি হয়।

ছবি: ইত্তেফাক

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইত্তেফাক ভবনের সম্মেলন কেন্দ্রে 'যক্ষ্মা, সাম্প্রদায়িক অধিকার ও লিঙ্গ সম্পর্কিত তথ্য প্রচার' বিষয়ক গোল টেবিল বৈঠকে আলোচকেরা এসব কথা বলেন। ইউএনওপিএস (জাতিসংঘ প্রকল্প সেবাসমূহের কার্যালয়) এর সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা নারী মৈত্রী এ সভার আয়োজন করে।  

নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. ফারজানা জামান, বিভাগীয় টিবি বিশেষজ্ঞ, ঢাকা বিভাগ, এনটিপি, ডিজিএইচএস; মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সাবেক সমন্বয়ক এবং অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান এবং সহযোগী অধ্যাপক আরিফ-উজ-জামান খান। 

ছবি: ইত্তেফাক

মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন নারী মৈত্রীর প্রকল্প সমন্বয়ক তৌহিদা সুলতানা। তিনি বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ১০ দশমিক ৬ মিলিয়ন মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন পুরুষ, ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন নারী এবং ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন শিশু।  বাংলাদেশে প্রতি লাখে ২২১ জন যক্ষ্মা রোগী রয়েছেন। প্রতি লাখে ২৪ জন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন।

ডা. ফারজানা জামান বলেন, যক্ষ্মা শনাক্তকরণের গত ১০ বছরে আমাদের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। ২০১২ সালে যক্ষ্মা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমাদের মাত্র ২০টি মেশিন ছিল। এখন ৮৩৩ টি মেশিন দিয়ে আমরা যক্ষ্মা শনাক্ত করতে পারছি। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে যক্ষ্মা শনাক্তের সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। প্রতি মিনিটে আমাদের দেশে একজন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। ১২ মিনিটে একজন মারা যান। করোনায়  এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে ২৯ হাজার রোগী মারা গেছে। আর শুধু ২০২৩ সালে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৪ হাজার মানুষ। কাশি দিতে দিতে গলা দিয়ে রক্ত ঝরে মারা যাচ্ছে, এমন রোগী আজকাল কম পাওয়া যায়। যক্ষ্মার ধরন বদলেছে। চুল এবং নখ ছাড়া সব জায়গায় যক্ষ্মা হতে পারে। এ সব বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। 

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকার বিনামূল্যে যক্ষ্মার ওষুধ দিয়ে থাকে। আগে এই ওষুধগুলো দাতা দেশ থেকে আনা হতো। কিন্তু এখন বাংলাদেশেই এই ওষুধ তৈরি হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসএএস