এখনো সেরাটা দেওয়া বাকি নাহিদের 

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৪:৫৭

সিলেটে চলতি বছরের মার্চ মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাদা পোশাকে অভিষেক হয় টাইগার পেসার নাহিদ রানার। ২১ বছর বয়সী এই পেসার ঐ এক ম্যাচের পর পাকিস্তান সফরে খেলেছেন দুই ম্যাচ। অর্থাৎ বলা যায়, লাল বলে তার ক্যারিয়ার মাত্র তিন ম্যাচের। আর এর মধ্যেই ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচে দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় বল করেছেন তিনি। ১৫২ কিলোমিটার। ঐ বল দেখে ধারাভাষ্যকাররাও অবাক হয়ে যান। যদিও পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি একদমই নতুন নয়। 

কিন্তু সফরকারী দলের কেউ এমন কিছু করবে তা হয়তো কল্পনায়ও করতে পারেনি। শুধু তা-ই নয়, পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপেও ধস নামিয়েছিলেন তিনি। গতি, ছন্দ আর সুইং মিলিয়ে ছিলেন অনন্য। দুই টেস্টে নাহিদের শিকার ছয় উইকেট। এর মধ্যে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রানে ৪ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। নিজের এই সাফল্যকে স্বপ্নের মতো ভাবছেন না নাহিদ। তবে এখনো দেশকে সেরাটা দেওয়ার বাকি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আসন্ন ভারত সফরের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে টাইগাররা। লক্ষ্য ভালো কিছু অর্জনের। 

গতকাল অনুশীলনের পর ভিডিও বার্তায় নাহিদ জানান, টেস্ট ফরম্যাটে নিজের প্রথম দেশের বাইরে সাফল্য পাওয়ার অনুভূতি। তিনি বলেন, 'স্বপ্নের মতো না কিন্তু আমি যেটা আশা করেছিলাম কিংবা দল যেটা আমার কাছে প্রত্যাশা করেছিল তা করতে পেরেছি। দেশ ছাড়ার আগে আমি বলেছিলাম, দেশের জন্য কিছু করতে চাই। করতে পেরেছি। এজন্য অনেক ভালো লাগছে।' 

নাহিদের গতি তার মূল অস্ত্র। নিজের বোলিংয়ের শক্তিশালী দিক সম্পর্কে তার জানা। পাকিস্তানে গতির তাণ্ডব দেখিয়ে দেশের ইতিহাসে ইতিমধ্যে কীর্তিও গড়ে ফেলেছেন তিনি। তবে কেবল জোরেই বল করতে হবে এমন ধারণা নিয়ে পড়ে থাকেন না নাহিদ, 'এটা কখনো অনুভব করি না যে, ১৫২ কিলোমিটারে বল করতে হবে বা এর চেয়েও জোরে করতে হবে। একটা জিনিসই মাথায় নিয়ে বোলিং করেছি, দল আমাকে যে পরিকল্পনা দিয়েছে, ঐ পরিকল্পনায় করেছি বা আমার নিজের যে পরিকল্পনা ছিল সেই অনুযায়ী বোলিং করেছি।' 

পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পর নিজের বাড়িতে গিয়েছিলেন নাহিদ। দেশের এই পরিস্থিতিতেও নাহিদের নিজের বাড়ির আঙিনায় ছিল খুশির জোয়ার। আশপাশের মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানাতে কার্পণ্য করেননি, 'তারা অনেক খুশি। আমার বন্ধুবান্ধব, পরিবার, গ্রামের সবাই। প্রত্যেকে খুশি। তারা সবাই বলছে, অনেক ভালো হয়েছে। সামনে আরও ভালো করতে হবে। এগিয়ে যাও।' 

নাহিদের আগে জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে গতিতে বল করেছিলেন রুবেল হোসেন। তবে নাহিদ কাউকে অনুসরণ করেন না। বাংলাদেশের সব পেসারই রয়েছেন তার পছন্দের তালিকায়, 'সত্যি কথা বলতে, আমার সেভাবে কাউকে অনুসরণ করা হয় না। বাংলাদেশের সব পেস বোলারকে ভালো লাগে। কারণ, তাদের সবার খেলা দেখেই বড় হয়েছি। সে রকম কেউ একজন নয়। বাংলাদেশের সবার খেলাই ভালো লাগে। সবাই আমার সিনিয়র। ওনাদের খেলা দেখে বড় হয়েছি। তো সবার বোলিংই ভালো লাগে।' 

বাংলাদেশের পরবর্তী গন্তব্য ভারত। স্বাগতিকরা তুলনামুলক কঠিন প্রতিপক্ষ। শক্তি-সামর্থ্য সব কিছুতেই অনেকটা এগিয়েও রয়েছেন তারা। তাই বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তুত করতে বেশ মনোযোগী। সেই প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে তিন দিন হলো। এখানেও নেটে নাহিদ রানাকে গতির ঝড় তুলতে দেখা যাচ্ছে। কারণ ভারতকে পরাস্ত করতে হলে বল হাতে বড় ভূমিকা রাখতে হবে তারও। 

নিজের ভারত সফরে লক্ষ্য নিয়ে নাহিদ বলেন, 'আজকে অনুশীলন করলাম। প্রস্তুতিও ভালো আছে। প্রস্তুতি যত ভালো হবে ঐখানে গিয়ে ম্যাচের মধ্যে ভালো করার সম্ভাবনা তত ভালো হবে। ভারত তো অবশ্যই ভালো দল। তবে ক্রিকেটে দুই দলের মধ্যে যে ভালো খেলবে তারাই জিতবে। তো তখন দেখা যাবে ম্যাচের মধ্যেই। একটা লক্ষ্য তো আছে। দলকে এখনো আমার সেরাটা দেওয়া বাকি রয়েছে। দেব সামনে।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ