বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ১৮ জুলাই সাভারে পুলিশের গুলিতে নিহত কলেজছাত্র সৈয়দ আসহাবুল ইয়ামিনের স্মরণে সাভারের পাকিজা মোড়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে শহীদ ইয়ামিনের বাবা মো. মহিউদ্দীনের উপস্থিতিতে স্মৃতিস্তম্ভটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বকর সরকার। এ সময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজার সামনের ইউটার্নকে শহীদ ইয়ামিন চত্বর ঘোষণা করা হয়।
শহীদ ইয়ামিনের বাবা মো. মহিউদ্দীন বলেন, আমার ছেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণ দিয়ে শহীদ হয়েছে। তবে যেভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা দেশের মানুষ দেখেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভ দিয়ে আমার কিংবা আমার ছেলের কোন উপকারে আসবে না। তারপরও ইয়ামিন নিহত হওয়ার পর তার সহপাঠি এবং ছোট, বড় অনেকেই আমার কাছে অনুমতি নিয়েছে ইয়ামিনের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য। আমি বলেছি কোন মূর্তি যদি তৈরি না হয় তাহলে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা যেতে পারে। এরই ধারাবাহিতায় একটি স্মৃতিস্তম্ভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বকর সরকার বলেন, শহীদ ইয়ামিন নিজের প্রাণ দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে গেছে। এ সময় তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে সাভারের সব শহীদদের নামের তালিকাসহ একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় সাভার মডেল থানার ওসি মো. জুয়েল মিয়া, ইয়ামিনের শিক্ষকরা, সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনে গত ১৮ জুলাই সাভারে মিলিটারি ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ছাত্র আসহাবুল ইয়ামিন প্রাণ হারান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও সাঁজোয়া গাড়ির ওপরে মুমূর্ষু ইয়ামিনকে ঘুরানো হয়, পরে জীবিত অবস্থাতেই সড়ক বিভাজকের উপর দিয়ে ফেলে দেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

