ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের বিখ্যাত চিত্রকর্ম স্টারি নাইটে রঙের বিশ্লেষণগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ‘লুকানো টার্বুলেন্স’ (hidden turbulence)-এর সঙ্গে আকর্ষণীয়ভাবে মিলে যায়। এ থেকে অনুমান করা হয়, প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে আশ্চর্যজনকভাবে বিশদ ধারণা ছিল আইকনিক এই শিল্পীর।
নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্টারি নাইটে ‘চোখে দেখার’ বাইরেও আরও বেশি কিছু রয়েছে। এর অশান্ত ঘূর্ণায়মান আকাশ আমাদের বাস্তব-বিশ্বের বায়ুমণ্ডলে ঘটে যাওয়া অদৃশ্য তরল গতিবিদ্যা প্রক্রিয়াগুলোর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়।

ভ্যান গঘ মৃত্যুর এক বছর আগে ১৮৮৯ সালের জুনে দক্ষিণ ফ্রান্সে একটি আশ্রয়ে (asylum) থাকার সময় স্টারি নাইট এঁকেছিলেন। তখন তিনি মানসিক বিপর্যয় থেকে কেবল কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন।
মাস্টারপিস চিত্রকর্মটি চিত্রশিল্পীর ঘরের জানালা থেকে একটি ঘূর্ণায়মান আকাশের দৃশ্যকে দেখায়, যার অগ্রভাগে একটি কাল্পনিক গ্রাম যুক্ত করা হয়েছে। চিত্রকর্মটি তার বিশদ ব্রাশ স্ট্রোক এবং উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারের জন্য বিখ্যাত।
চিত্রকর্মটি সম্প্রতি চীনের গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এটি নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করেছেন তারা। গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফিজিক্স অফ ফ্লুইডস জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণায়, গবেষকরা চিত্রকর্মে ব্যবহৃত ব্রাশ স্ট্রোক এবং রঙগুলোর সূক্ষ্ম বিবরণ বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখেছেন, চিত্রকর্মের উপাদানগুলো বায়ুমণ্ডলে গ্যাসের 'লুকানো টার্বুলেন্স'-এর সাথে দৃঢ়ভাবে মিলে যায়।
গবেষণার সহ-লেখক চীনের জিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরল গতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ এবং সমুদ্রবিজ্ঞানী ইয়ংজিয়াং হুয়াং এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই শিল্পকর্ম প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে গভীর ও স্বজ্ঞাত ধারণা প্রকাশ করে। ভ্যান গঘ টার্বুলেন্স সঠিকভাবে উপস্থাপন করেছেন। মেঘ এবং বায়ুমণ্ডলের গতিবিধি অধ্যয়ন থেকে বা আকাশের গতিশীলতা কীভাবে ক্যাপচার করতে হয়, তার সহজাত ধারণা হতে পারে এই চিত্রকর্ম।
গবেষকরা চিত্রকর্মের আকাশে ১৪টি 'ঘূর্ণি' নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাস কীভাবে জড় শক্তির উপর নির্ভর করে বিভিন্ন মাত্রায় চলাচল করে, চিত্রকর্মে হলুদের তীব্রতা দিয়ে সেই তীব্রতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই চিত্রের ঘূর্ণিগুলো 'কলমোগোরভের আইন' দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা নিদর্শনগুলো অনুসরণ করে।
শিল্পীর মৃত্যুর কয়েক দশক পরে কলমোগরভ এবং ব্যাচেলর তাদের আইন (সূত্র) তৈরি করেছিলেন। গবেষণার লেখকরা লিখেছেন, এ থেকে বোঝা যায় ভ্যান গঘ অবশ্যই তরল গতিবিদ্যা জ্ঞান ব্যবহার করেননি।
চলতি বছরের মে মাসে নাসার একটি মহাকাশযান (জুনো প্রোব) থেকে বৃহস্পতির গ্রহের নতুন ছবিতেও সেখানকার উত্তর গোলার্ধে তীব্র ঝড়ের ঘূর্ণি দেখতে পায়। এটি দেখতে অনেকটা ভ্যান গঘের বিশ্লেষণ করা ব্রাশ স্ট্রোকের মতো।
তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স, ডেইলি মেইল

