১০৫ ট্রিলিয়ন অঙ্কে পাই-এর মান বের করে বিশ্ব রেকর্ড

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৪, ১৮:৫৩

আগের রেকর্ড ভেঙে পাই-এর অমূলদ সংখ্যা ১০৫ ট্রিলিয়ন সংখ্যায় গণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কম্পিউটার স্টোরেজ কোম্পানি। গণনা সম্পূর্ণ করতে সময় লেগে যায় ৭৫ দিন এবং ১ মিলিয়ন গিগাবাইট ডেটা ব্যবহার করা হয়। অন্তহীন সংখ্যা গণনায় এটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড।

গত ১৪ মার্চ পাই দিবসে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মার্কিন কম্পিউটার স্টোরেজ কোম্পানি 'সলিডিগম' বিবৃতি দিয়ে এ তথ্য জানায়। পাইয়ের এই বিশাল সংখ্যায় মান উন্মোচন করার জন্য কয়েক হাজার স্মার্টফোনের সমতুল্য কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন।

প্রায়শই ৩.১৪ হিসাবে পাই-এর মান সংক্ষেপিত হয়। এটি একটি অমূলদ সংখ্যা, যার অর্থ এটি অসীম। পাইয়ের লুকানো দশমিক স্থানগুলো উন্মোচন করা গণিতের উপর কোনো বাস্তব প্রভাব ফেলে না। কারণ, খুব কম সময়ই গণনার জন্য কয়েক ডজনের বেশি অঙ্কের প্রয়োজন হয়।

উদাহরণস্বরূপ, নাসার বিজ্ঞানীদের মহাবিশ্বের বেশিরভাগ অংশ বোঝার জন্য কেবল পাই এর প্রথম ১৫ দশমিক স্থান জানতে হবে। পরিবর্তে, সংখ্যাটিকে তার সর্বাধিক সঠিক মানটিতে গণনা করা দীর্ঘকাল ধরে নতুন কম্পিউটার প্রোগ্রাম এবং ডেটা স্টোরেজ সিস্টেমগুলো পরীক্ষা করার জন্য একটি বেঞ্চমার্ক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

মার্কিন কম্পিউটার স্টোরেজ কোম্পানি সলিডিগম এক বিবৃতিতে জানায়, তারা প্রায় ১০৫ ট্রিলিয়ন দশমিক স্থানে পাই গণনা করতে পেরেছে। বলতে গেলে, আপনি যদি একটি অবিচ্ছিন্ন লাইনে ১০ সাইজের ফন্ট ব্যবহার করে কাগজে এই সংখ্যাটি টাইপ করেন, তবে সংখ্যাটি প্রায় ২.৩ বিলিয়ন মাইল (৩.৭ বিলিয়ন কিলোমিটার) দীর্ঘ হবে।

যার অর্থ এটি পৃথিবী থেকে ইউরেনাস এবং নেপচুনের মধ্যবর্তী পর্যন্ত দূরত্বের সমান প্রসারিত হতে পারে। আর পাই এর ১০৫ ট্রিলিয়নতম ডিজিট হলো ৬। পাই এর এই মান গণনা সম্পূর্ণ হতে সময় লেগেছিল প্রায় ৭৫ দিন।

কোম্পানির মালিকানাধীন এসএসডি (সলিড স্টেট ড্রাইভ) দিয়ে এই হিসাব করা হয়। হিসেব করতে যে স্টোরেজ প্রয়োজন হয়েছিল, তা নতুন একটি ল্যাপটপে লাগিয়ে দেখা গেছে- প্রায় ১ পেটাবাইট (১০ লাখ গিগাবাইট)।

২০২২ সালের এপ্রিলে গুগল ক্লাউড পাই–এর মান ১০০ ট্রিলিয়নের ঘর পর্যন্ত গণনা করে। গত বছরের এপ্রিলে গুগলের এই গণনার সঙ্গে সলিডিগম তাদের গণনা মিলিয়ে দেখে।

এর আগে এই রেকর্ড ছিল ৬২.৮ ট্রিলিয়ন ডিজিট পর্যন্ত গণনা। ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব দ্য গ্রিসনসের একটি সুপার কম্পিউটারে ১০৮ দিন ধরে এই গণনা করা হয়েছিল। আরও পেছনে গেলে ২০২০ সালে আলাবামার হান্টসভিলের টিমোথি মুলিকান তার ব্যক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহার করে ৫০ ট্রিলিয়ন ডিজিট পর্যন্ত গণনা করে রেকর্ড গড়েছিলেন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে, মানব মস্তিষ্ক ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি ঘর পর্যন্ত পাইয়ের মান মুখস্ত করেছেন এখজন ব্যক্তি- যা ৭০ হাজার ঘরের সংখ্যা পর্যন্ত। ২১ মার্চ ২০১৫ ভারতের ভিআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজবীর মীনা এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

ভবিষ্যতে কম্পিউটারগুলো আরও শক্তিশালী হতে থাকায় আমরা পাইয়ের আরও বৃহত্তর সংখ্যা হয়তো উন্মোচন করতে শুরু করবো। তবে কম্পিউটার যতই শক্তিশালী হোক না কেনো, অসীম প্রকৃতির কারণে আমরা কখনোই পুরো সংখ্যার জট খুলতে পারবো না।

তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স

ইত্তেফাক/এসকে