অন্তত একটি ম্যাচ জিততে চান জ্যোতিরা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:১৮

বহুলকাঙ্ক্ষিত শিরোপা হাতে তুলে বিশ্বকে চোখ রাঙানি দিতে কে না চায়। বিশ্বকাপের ময়দানে লড়াই করা প্রতিটি দলই সেই শিরোপায় চোখ রেখে মাঠে নামে। তবে এই জায়গায় ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। মনে ও মননে বিশ্বাস, 'ঐ শিরোপা এবার আমাদের জেতা হচ্ছে না। তার চেয়ে ভালো একটি ম্যাচ জেতা যায় কি না।' মুখ ফুটে এই শব্দগুলো বেরিয়ে না এলেও ইঙ্গিতে এমনটাই জানিয়েছেন জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। 

২৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার এখন পর্যন্ত ৪টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। কিন্তু কোনো ম্যাচ জিততে পারেননি। অন্যদিকে ২০১৪ সালে দেশের মাঠে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপরে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে আর কোনো জয় আসেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। গতকাল জ্যোতি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, 'আমি নিজেও চারটি বিশ্বকাপ খেলেছি, এখন পর্যন্ত একটা ম্যাচও জিততে পারিনি। সেজন্য বিশ্বকাপে যাওয়ার আগেই লক্ষ্য থাকবে ম্যাচ জেতায়। অবশ্যই এবার বিশ্বকাপে আমার ব্যক্তিগতভাবে যেমন লক্ষ্য, তেমনি গোটা দলেরই লক্ষ্য, যেন আমরা একটা ম্যাচ জিতে শুরু করতে পারি।' 

আগামী ৩ অক্টোবর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়েই যাত্রা শুরু করবেন জ্যোতিরা। এই ম্যাচটি তার জন্যও আলাদা কিছু, নিজের শততম ম্যাচ হবে সেটি। এই বিষয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেছেন, 'প্রথম ম্যাচ বিশেষ কিছু, প্রথম ম্যাচ জিততে চাই। আমার জন্য এটা সব থেকে স্পেশাল। আমার জন্য এবং আমার দলের জন্য এটা অনেক বড় একটা অর্জন হবে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে ১০০তম ম্যাচ, আমি এখনো জানি না খেলতে পারব কিনা। যদি সুস্থ থাকি তাহলে তো অবশ্যই খেলব। যদি খেলি, প্রথম লক্ষ্য এটাই থাকবে যেন জিততে পারি।' 

ম্যাচ জয়ের যে লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ পরিকল্পনা সাজিয়েছে তার পেছনে জ্যোতির যুক্তি, '২০১৪ ছাড়া একটা বিশ্বকাপেও আমরা একটি ম্যাচও জিততে পারিনি। ভালো ক্রিকেট খেলেছি। তবে ভালো ক্রিকেট খেলার কোনো মানে নাই, যদি ম্যাচ জিততে না পারি। প্রথমত চাই ম্যাচ জিততে। দ্বিতীয়ত, যখন আমরা একটা ধারায় আসতে পারব, আমার কাছে মনে হয় আমাদের যে দল... অবশ্যই.. সেমিফাইনাল কে না খেলতে চায়। আমাদের লক্ষ্য থাকবে সেভাবেই। আমরা জানি যে আমাদের ক্রিকেটটা যদি এক ধাপ এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে বিশ্বকাপের চেয়ে বড় মঞ্চ আর হতে পারে না। ওখানে ভালো পারফরম্যান্স করলে শুধু আমরা না, যারা বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলে, বাকি যে মেয়েরা... যারা বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলতে চায় তাদের জন্য আমরা ভালো কিছু করতে চাই।' 

এ দিকে বাংলাদেশের রয়েছে পাওয়ার হিটিং স্বল্পতা। টি- টোয়েন্টি ক্রিকেট হলেও টাইগ্রেস বাহিনী ওয়ানডে মেজাজ থেকে বের হতে পারে না। তবে বিষয়টিকে জ্যোতি সেভাবে দেখতে চান না। তিনি বলেছেন, 'আমি আসলে মনে করি না। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ার হিটিং গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্ট্রাইক রোটেশনটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেখা গেল একজন ব্যাটার এক ওভারে দুটি চার মারল আর পরের দুই ওভারে কোনো রান নেই, সেটি তো হয় না। তাই পাওয়ার হিটিংয়ের পাশাপাশি স্ট্রাইক রোটেশনটাও দরকার আছে। দল সেভাবেই সাজানো হয়। সেখানে কেউ মেরে খেলা পছন্দ করে, কেউ স্ট্রাইক রোটেশন করে খেলে।' 

এবারের বিশ্বকাপে ছেলেদের সমান প্রাইজমানি ও ম্যাচ ফি দেওয়া হবে। এই বিষয়ে জ্যোতি বলেছেন, 'টাকা জিনিসটা সবসময় অনুপ্রেরণা দেয়, এটা স্বাভাবিক বিষয়। আইসিসি এই উদ্যোগ নিয়েছে, এটি অনেক ভালো একটি উদ্যোগ। এতে করে দেখা গেল, অন্তত আইসিসি বৈষম্য করছে না, এটা খুব ভালো একটা বিষয়। মেয়েদের ক্রিকেটে অনেক অনেক জায়গায় পরিবর্তন হচ্ছে, বাংলাদেশেও হচ্ছে। এতে করে ভালো কিছু করলে ভালো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এইদিক থেকে ভালো লাগছে।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ