এ বছরই আইপিএলের নিলাম। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) এখনও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের খেলোয়াড় ধরে রাখা ও ছেড়ে দেওয়ার গাইডলাইন দেয়নি। তবে ভারতীয় মিডিয়ার খবর, এবার সর্বোচ্চ ৬ জন খেলোয়াড় ধরে রাখার সুযোগ পাবে দলগুলো। এই গুঞ্জনের মধ্যেই রোহিত শর্মার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছাড়ার আলোচনা। আইপিএলের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি নাকি ছেড়ে দিচ্ছে ভারতের অধিনায়ককে।
শুধু রোহিত নন, আরও কয়েকটি বড় নাম আলোচনায়। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আশা, এবার ৮ জন খেলোয়াড় ধরে রাখার অনুমতি পাবে বিসিসিআই থেকে। তবে সংখ্যাটা ছয়ে নেমে গেলে রোহিতের সঙ্গে আরও অন্তত চার জন খেলোয়াড় আছেন, যাদের ছেড়ে দিতে যাচ্ছে তাদের বর্তমান দল।
রোহিত শর্মা
আইপিএলের অন্যতম সফল অধিনায়ক রোহিত। মুম্বাইকে পাঁচটি শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি। তবে গত মৌসুমে তাকে অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় হার্দিক পান্ডিয়াকে। মুম্বাইয়ে ফিরে অধিনায়কের দায়িত্ব ঠিকঠাক সামলাতে পারেননি হার্দিক। ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছেন। দলের মধ্যে কোন্দলও নাকি তৈরি হয়েছে।
এর মাঝেই কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে মুম্বাইয়ের ম্যাচের আগে নতুন এক তথ্য ফাঁস হয়। তখন কলকাতার সহকারী কোচ ছিলেন অভিষেক নায়ার। তাকে রোহিত জানান, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছাড়তে চান তিনি। ওই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল। যদিও পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
গত মৌসুমের রেশ এখনও কাটেনি। ভারতীয় মিডিয়ার খবর, নিলামের আগে তাকে ছেড়ে দিতে যাচ্ছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।
লোকেশ রাহুল
গত আইপিএলে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমালোচনার শিকার হয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। আইপিএল চলাকালীন অধিনায়ক লোকেশ রাহুলের সঙ্গে বাজে আচরণ করেছিলেন লখনউ ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক সঞ্জীব গোয়েনকা। ভারতীয় মিডিয়ার খবর ছিল, লখনউ প্লে-অফে উঠতে না পারায় মাঠে প্রকাশ্যে রাহুলকে ধমক দিয়েছিলেন সঞ্জীব।
ওই ঘটনার পর পরিস্থিতি ঠিক করতে নিজের বাড়িতে নৈশভোজে আমন্ত্রণ করেন লখনউয়ের মালিক। তিনি ব্যাপারটি সামলানোর চেষ্টা করলেও সেটি পুরোপুরি ঠিক হয়নি। ওই সময়ই রাহুলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানিয়েছিলেন, গতবারই লখনউ ছাড়তে চেয়েছিলেন ভারতীয় ব্যাটার। সেবার না হলেও নতুন মৌসুমে নাকি লখনউয়ে থাকতে চান না রাহুল। এবারের নিলামের আগেই আসতে পারে সেই ঘোষণা।
ফাফ ডু প্লেসি
গত মৌসুমেই শুধু মুম্বাইয়ে অধিনায়ক ছিলেন না রোহিত। এরপরও নাকি মুম্বাইয়ের মাঠের সিদ্ধান্ত রোহিতকেই নিতে হয়েছিল। কারণ গত মৌসুমে হার্দিকের অধীনে খুবই বাজে সময় যাচ্ছিল দলটির। ওদিকে লোকেশ রাহুল তো লখনউয়ের অধিনায়কই ছিলেন। সামনের নিলামের আগে তাদের দল ছাড়ার গুঞ্জন। তাদের সঙ্গে দল ছাড়ার আলোচনায় আইপিএলের আরেক অধিনায়কের।
তিনি ফাফ ডু প্লেসি। গত মৌসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক ছিলেন তিনি। সামনের মৌসুমে তার বেঙ্গালুরুতে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটারের বয়স এখন ৪০। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আগেই বিদায় নেওয়া ডু প্লেসি ফর্মেও নেই। এই অবস্থায় তাকে বাদ দিয়ে নতুন করে দল গড়ার কথা চিন্তা করতে পারে বেঙ্গালুরু। নতুন অধিনায়ক এলে কি ভাগ্য বদলাবে তাদের?
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল
২০২৪ সালের আইপিএল একেবারেই ভালো যায়নি গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের। ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে ইতিহাস গড়লেও কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে ছিলেন নিজের ছায়ায় বন্দি। বেঙ্গালুরু তাকে কিনেছিল ১৪ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে। কিন্তু দামের মান রাখতে পারেননি। তাছাড়া দলে রযেছেন উইল জ্যাকস ও ক্যামেরন গ্রিনের মতো অলরাউন্ডার। এই অবস্থায় ‘ফর্মহীন’ ম্যাক্সওয়েলকে ছেড়ে দিতে পারে বেঙ্গালুরু।
সেক্ষেত্রে আইপিএল নিলাম হয়তো আবার ‘গরম’ করবেন ম্যাক্সওয়েল। কারণ তার সামর্থ্যের কথা আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অজানা থাকার কথা নয়।
ভেঙ্কটেশ আইয়ার
নিলামের আগে ঠিক কতজন খেলোয়াড় ধরে রাখা যাবে, এখনও নিশ্চিত নয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। যদি সর্বোচ্চ ছয় জন খেলোয়াড় ধরে রাখার গাইডলাইন থাকে, তাহলে হয়তো কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দিতে যাচ্ছে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে।
গত মৌসুমে কলকাতার জর্সিতে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন তিনি। কিন্তু দলে রয়েছেন আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। কলকাতা নিশ্চয়ই ধরে রাখতে চাইবে সুনিল নারিন, আন্দ্রে রাসেল, শ্রেয়াস আইয়ার, রিঙ্কু সিং ও ফিল সল্টকে। সেক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকলেও ভেঙ্কটেশকে ধরে রাখার ‘উপায়’ থাকবে না কলকাতার!
