ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে এবং নিজেদের জমানো কিছু টাকায় হাঁস কিনে চার বছর ধরে পথে-প্রান্তরে জলাশয়ে পালন করে আসছি। আমরা ‘ভাসমান হাঁস খামারি’। প্রতিবছর এক ঝাক হাঁস নিয়ে হবিগঞ্জ থেকে কুমিল্লায় চলে আসি। বর্ষা মৌসুমে আগে থেকেই হাঁস পালনের জন্য কুমিল্লার উঁচু এলাকার জলাধারগুলো বেছে নেই। এই হাঁস পালনের মাধ্যমে আমাদের সুদিন ফিরেছে। কথাগুলো বলেন, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বানিয়াচং গ্রাম থেকে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা এলাকায় এক ঝাক হাঁস নিয়ে আসা সুজাত আলী, সোহেল মিয়া ও ফারুক হোসেনসহ ছয় যুবক।
ভাসমান খামারি সুজাত আলী, সোহেল মিয়াসহ অন্য যুবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছর জুন মাসের প্রথমদিকে তারা ছয়জন মিলে দেশীয় জাতের চার থেকে সাড়ে চার মাস বয়সের সাড়ে ৪ হাজার হাঁস নিয়ে দুই থেকে আড়াই মাসের জন্য কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা এলাকায় এসেছেন। তারা তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে উপজেলার কালখাড়পাড়, কাটানিসার ও বাঁশমঙ্গল এলাকায় জলাশয়ে হাঁস পালন করছেন। রাতে হাঁসগুলো রাখার জন্য টিন ও নেট দিয়ে বেষ্টনী গড়ে তুলেছেন এবং এর পাশে ছোট্ট টিনের চালা নির্মাণ করে রান্না ও খাওয়াসহ তারা রাতযাপন করেন। তারা জানান, সবগুলো হাঁস ডিম দেয় না। সাড়ে ৪ হাজার হাঁসের মধ্যে এখন ১৮শ হাঁস প্রতিদিন ডিম দিচ্ছে। তারা আশা করছেন, আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে ৪ হাজার হাঁস একসঙ্গে ডিম দেবে। এখন প্রতিদিন পাইকাররা এসে ১০০ ডিম ৮০০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বছর শেষে সব খরচ বাদ দিয়ে তাদের ১৮ লাখ টাকার মতো মুনাফা থাকবে বলে জানান তারা। এতে প্রতিজনের লাভ হবে তিন লাখ টাকা করে।
