লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজারে অবস্থিত তোরাবগঞ্জ আহমদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের জন্য শিক্ষার্থীদের মোবাইলে ব্যাংক হিসাব খুলতে রেজিস্ট্রেশনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা। গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিকার প্রার্থনা করে ও অবৈধভাবে আদায়কৃত অর্থ ফেরত পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করেছে।
জানা যায়, আহমদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০১৭-১৯ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত ১৬০ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির আওতাভুক্ত হয়। মাদ্রাসা সুপারের নির্দেশে সহকারী সুপার মুকবুল আহম্মদ প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নামে ২০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। তাছাড়া যে সকল ছাত্র-ছাত্রী ঐ মাদ্রাসা থেকে জেডিসি পাস করে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে তাদেরকে উপবৃত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে।
মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আহসানউল্যাহ, আলামিন, আশরাফ মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, তামান্না আক্তার ও নবম শ্রেণির রায়হান এবং অষ্টম শ্রেণির ওমর ফারুক জানান, বিকাশ অ্যাকাউন্টের নাম করে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা, আর যারা গেল বার্ষিক পরীক্ষা কিংবা জেডিসি পরীক্ষায় ফেল করেছে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। তারা আরো জানায়, এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে কিংবা কারো কাছে প্রকাশ করলে, পরীক্ষায় দেখে নেওয়ার হুমকি দেন মাদ্রাসা সুপার।
মাদ্রাসা সুপার আবদুল লতিফ বলেন, এ খাতে আমরা কোনো অর্থ গ্রহণ করিনি। ছাত্র-ছাত্রীর অভিযোগ মিথ্যা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ নিয়ে থাকলে তা আমি জানি না।
এ ব্যাপারে বিকাশের লক্ষ্মীপুর টেরোটরি ম্যানেজার আরবার জানান, বিকাশ রেজিস্ট্রেশন করতে কোনো অর্থের প্রয়োজন হয় না। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠান কোনো অর্থ গ্রহণ করার প্রশ্নই আসে না। কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
