মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ইতি টানতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু সেই ইচ্ছা কি পূরণ হবে সাকিবের? তিনি কি বাংলাদেশে এসে টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলবেন? নাকি কানপুরে আজই তার শেষ টেস্টের শেষ দিন হবে? যারা সাকিবকে পছন্দ করেন এবং যারা করেন না, এসব প্রশ্ন এখন সকলের মনে। কী হবে সাকিবের ক্রিকেট ভবিষ্যতের? এই প্রশ্নের আগে আপাতত টেস্টের ভাবনাটাই মুখ্য।
আগামী ২১-২৫ অক্টোবর মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে খেলেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলতে চান সাকিব, সেই কথা কানপুরে বসে গেল ২৬ সেপ্টেম্বর বলেছেন তিনি। তবে নিরাপত্তার বিষয়ে পরিষ্কার না হয়ে তিনি বাংলাদেশে আসতে চান না। সাকিব নিরাপত্তা চাওয়ার পরে বিসিবি থেকে বিষয়টি ঠেলে দেওয়া হয় সরকারের দিকে। এরপরে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছিলেন, ‘খেলোয়াড় সাকিবের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আছে। তবে ফ্যাসিস্ট সরকারের সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিপক্ষে জনমনে তৈরি হওয়া ক্রোধের বিপরীতে নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা চাওয়া অবান্তর।’
এমন বক্তব্যের পরে সাকিবের দেশে আসার বিষয়টি আরও জটিল হয়। গতকাল মেহেদী হাসান মিরাজ সাকিবের বিষয়ে বলেছেন, ‘তিনি একটা স্বপ্নের কথা বলেছেন। শেষটা দেশের মাটিতে করতে চেয়েছেন। এখন যেহেতু এখানে একটা ইস্যু রয়েছে, পরিষ্কার বার্তা পাওয়া যায়নি, কীভাবে করবে না করবে তারা (বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি) চিন্তা করবে। তিনি যদি পরিষ্কার বার্তা পান বা যেতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশেই শেষ হতে পারে। যেহেতু তিনি নিজে থেকে বলেছেন।’
মিরাজ আরও বলেছেন, ‘সাকিব ভাই অনেক আগে থেকে বলেছিলেন কীভাবে তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে চান। আমরা জানতাম। এটা এমন না যে, হুট করে বলেছেন। অনেক আগে থেকেই আমরা জানতাম জিনিসটা। সেটা একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার, তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আমরাও তাকে ঐভাবে গ্রহণ করেছি।’
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফিস বলেছেন, ‘সাকিবের বিষয়টা অবশ্যই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটা বিবেচিত বিষয়। মাননীয় ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বোর্ড সভাপতি এ বিষয়ে কথা বলেছেন। যেহেতু ব্যাপারটা ঐ পর্যায়ে রয়েছে, তাই এ ব্যাপারটা নিয়ে আমার মন্তব্য করাটা ঠিক হবে না। যেহেতু বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে সেখানেই বিবেচনা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘দেখুন, আমরা যদি কোনো কিছু চিন্তা না করে বিবেচনা করি, প্রতিটা খেলোয়াড়ই মাঠ থেকে বিদায় নিতে চায়, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সাকিবের বিষয়টা আসলে স্বাভাবিক না। যেহেতু ব্যাপারটা সর্বোচ্চ মহলে আলোচনা হচ্ছে, সেহেতু এটা ঐখান থেকেই মীমাংসা হয়ে গেলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’
পরিস্থিতি এমন তৈরি হওয়ায় দেশে এসে সাকিবের বিদায় নেওয়াটা বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এই জায়গা থেকে কানপুরে আজই হতে পারে সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ দিন।
