বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের উত্তম স্থান বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি। বিনিয়োগের বিদ্যমান সুবিধা তুলে ধরে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ মালয়েশিয়াকে এখানে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। শোকেজ বাংলাদেশ, গো গ্লোবাল শীর্ষক ঐ প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই)।
বাংলাদেশের বিদ্যুত্, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পসহ আরো কিছু খাতের উল্লেখ করে ্বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে কর অবকাশ সুবিধা রয়েছে। শতভাগ মুনাফা ফেরত আনা যায়, সরকার আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। দেশটির সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার দেখবে। চতুর্থবারের মতো আয়োজন হওয়া ঐ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমসিসিআইর সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। দিনব্যাপী ঐ প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে চারটি আলাদা কর্মঅধিবেশনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগ সুযোগ, অন্যান্য দেশে রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা, দক্ষ শ্রমিকের সুযোগসহ বেশকিছু সম্ভাবনার তথ্য উঠে আসে। মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ সুযোগের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। কে লিংক নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান গুণালাম সুব্রামানিয়াম বলেন, বাংলাদেশে করহার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন কর পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া ব্যবসা শুরু করার বেশকিছু আনুষ্ঠানিকতাও রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প বিষয়ক মন্ত্রী ড. অং কিয়ান মিং বাংলাদেশে বিনিয়োগে দেশটির আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষত হালাল খাদ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর মাধ্যমে উভয় দেশ উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রমিক পাঠানোর বিদ্যমান পরিস্থিতি সফলভাবে সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা উভয়পক্ষেরই সমাধান করা দরকার। ‘বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্ভাবনা’ বিষয়ক কর্ম অধিবেশনে অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর দেশটির সঙ্গে দ্রুত এফটিএ করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম, ঢাকায় মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার আমির ফরিদ আবু হাসান, বিএমসিসিআইর সাবেক সভাপতি আলমগীর জলিল, মহাসচিব সাব্বির আহমেদ খান প্রমুখ।
