হাবিপ্রবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে হলের রুম দখল

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৪, ১৭:২৭

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলে রুম দখলের অভিযোগ উঠেছে।

হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ইকোনমিক্স বিভাগের ২০ ব্যাচের মো. সুজন ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বুধবার (০২ অক্টোবর) হলের ২৩৭ নম্বর রুমে ওঠে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তালাবদ্ধ ২৩৭ নম্বর রুমের দরজায় বড় করে লেখা, মো. সুজন ইসলাম ECN 20, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে সুজন ইসলাম জানায়, আমি হল অফিসে আবেদন জমা দিয়েছিলাম। তারপর হলে উঠে গেছি। হল সুপারের অনুমতি নেইনি। আমি আগে হলে থাকতাম গণরুমে ছিলাম। দরজায় ছাত্রলীগ লেখা ছিল ওইটা ঢাকতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন লিখে দিয়েছি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের মো. মুক্তাদিরুল বারি চৌধুরী বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার অনুমতি ছাড়াই সে হলে উঠেছে। আর হলে ওঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এখনো শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানো শুরু হয়নি।

জানা যায়, আগে ২৩৭ নম্বর রুমে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মামুন থাকতো। রুম ফাঁকা দেখে সুজন ইসলাম একা রুমে উঠে যান এবং দরজার সামনে নিজের নাম ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন লিখে নিজের অবস্থান জানান দেন। 

শুধু সুজন ইসলাম নন। ৫ আগস্টের পর ছেলেদের হলগুলোর ছাত্রলীগের রুমগুলো থেকে অস্ত্র উদ্ধার করার পর সিলগালা করা রুমগুলো সিলগালা করা হয়। ছেলেদের সব হলের হল সুপার একযোগে পদত্যাগ করায় এই সিলাগালা করা রুমগুলোসহ হল দেখভালের জন্য সাময়িক সময়ের জন্য কয়েকজন শিক্ষককে হল সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

এদিকে হল সুপার না থাকায় সুজনের মতো প্রভাব খাটিয়ে বা অনেকেই রাজনৈতিক সুপারিশে আবার অনেকেই লিংক-লবিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে হলে উঠে পড়েছেন। 

বর্তমানে হলগুলো হল সুপার দেওয়া হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের কাছে অবৈধভাবে হলে ওঠা শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়াসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন। এর পাশাপাশি এই রুমগুলোর সিট ফাঁকা সাপেক্ষে হলের নিয়ম অনুযায়ী সিট বরাদ্দ চান শিক্ষার্থীরা।

ইত্তেফাক/এআই