এক পৃথিবী এক দেশ দেখতে চান জগলুল হায়দার

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৪, ১৯:১৪

ছড়ার জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জগলুল হায়দার। ছোটদের ঘুম পাড়ানি থেকে শুরু করে রাজপথে আলোড়ন তোলার ছড়ায়, মানবিক আবেদনে কিংবা সাংস্কৃতিক জাগরণে সব জায়গায় ছড়া নিয়ে জগলুল হায়দার স্বচ্ছন্দ বিচরণ করছেন প্রায় তিন দশক। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে লেখালেখি করে সাহস জুগিয়েছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, নিজেও ছিলেন সামনের সারিতে। যেকোনো অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালনে সবসময় তাকে পাওয়া যায় লেখালেখিতে। তিনি ছড়ায় ছড়ায় গল্প লেখেন, ছড়ায় ছড়ায় প্রবন্ধ আঁকেন। লেখেন গান। তার প্রতিবাদের ভাষা ছড়া-কবিতা-গানে ফুটে ওঠে সুনিপুণভাবে। আর তাই ছড়ার জগতে তাকে ভালোবেসে কেউ কেউ ছড়ার জাদুকর, কেউবা ছড়ার রাজা আবার কেউ কেউ ছড়াসম্রাট বলেও ডাকেন।

সাহিত্য জগতে দীর্ঘ সময় বিচরণে তিনি লিখেছেন অসংখ্য ছড়া কবিতা গল্প প্রবন্ধ গান। জীবনবোধ থেকে লেখালেখি করেন ছড়ার জাদুকর খ্যাত জগলুল হায়দার। মানবতার বন্ধু হয়ে সঙ্গী হন সাধারণ মানুষের। বিভিন্ন ইস্যুতে দেখা যায় তার লেখা ছড়া। সেটা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হোক কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিষয়। হালের মব কালচার থেকে সমাজের নীতিনির্ধারণী সকল পর্যায়ে সমস্যা তুলে ধরে সমাধান বাতলে দেন। শুধু বাংলাদেশের ইস্যুই নয় খেলাধুলা থেকে বিশ্বের যেকোনো ইস্যুতে তাকে সহজাতভাবে সোচ্চার থাকতে দেখা যায়। মনে প্রাণে যা বিশ্বাস করেন, কলমে তাই তুলে ধরেন নিঃশঙ্কচিত্তে। 

শব্দ চয়নে, ভাষার বুননে, তার লেখা প্রতিটি ছড়া হয়ে ওঠে শিল্প। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তার অব্যাহত প্রচেষ্টা আমাদের আনন্দিত করে। মুখের চলিত ভাষাকে লেখায় তুলে আনতে দুই যুগ ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নিজেও লিখেন চলতি (চলিত নয়) ভাষায়। সম্প্রতি অনেকেই তা প্রয়োগ করছেন টক শো থেকে শুরু করে লেখালেখিতেও। যা প্রয়োগ করার জন্য তাকে শুনতে হয়েছে ভর্ৎসনা। কিন্তু যে ভাষা মুখ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত আসে তার প্রয়োগ না করে চাপিয়ে দেয়া নদিয়ার ভাষা তিনি বর্জন করেছেন সচেতনভাবে। তার ছড়ায় ফুটে ওঠে প্রতিবাদের বিষয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে হুল ফোটানো, বিজ্ঞান, উত্তরাধুনিক বিষয়, শিশুতোষ তো আছেই। প্রখর রাজনৈতিক চেতনা ও গভীর ইতিহাসবোধ থেকে লেখালেখির কারণে সব বিষয়েই তিনি সমানভাবে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

ছড়াকার জগলুল হায়দার উনষাট পেরিয়ে ষাটে পদার্পণ করছেন। লেখালেখির জগতে পুরোদমে প্রবেশ করেছেন শূন্য দশকের শুরুতেই। এই লেখালেখির আগে তার যে জানাশোনা, দেখাশোনা এবং পড়াশোনা সেদিকে তাকালে অবাক হতে হয়। বাংলা সাহিত্যের অলিগলিতে কোথায় তিনি যাননি বা কোন বিষয়ে তিনি পড়েননি, তা বলা মুশকিল। শুধু বাংলা সাহিত্যই বা বলি কেন— বিশ্বসাহিত্যের যেকোনো বিষয় জানতে চাইলে তার শরণাপন্ন হন অনেকেই। 

জগলুল হায়দারকে বলা হয় চলন্ত ছড়াকার। চলতে চলতে ছড়া লেখেন, বলতে বলতে ছড়া বানান। ফেসবুকে ছড়া পোস্ট দেন, জাতীয় দৈনিকে ছড়া দেন ফোনে ফোনেও। দেখা যায় কি সাপ্তাহিক, কি মাসিক ত্রৈমাসিক, বার্ষিক, সংকলন, লিটলম্যাগ— কোথায় নেই তার ছড়া! তার ছড়ায় আছে মা, মাটি আর দেশপ্রেম। আছে প্রেম-ভালোবাসার ছড়া, রাজনীতির ছড়া। বিষয়-বৈচিত্র্যে ভরপুর এসব ছড়া। তিনি ছড়ায় ছড়ায় ছড়িয়ে আছেন পাঠকের হৃদয়ে।

সাহসী এই ছড়াকার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবসময় বলে আসছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ভীষণ সোচ্চার; সেটা দেশে হোক কিংবা বিশ্বের যেকোনো জায়গায়। তার কলমের ছোঁয়ায় ফুটে ওঠে দারুণভাবে। জনতার রাজ ছড়ায় তিনি লিখেন— ক্ষমতা চিনেছো বিপ্লব দ্যাখোনি দ্যাখোনি দ্রোহের কাল/ আঁধারে যতই ঢাকো না রাত্রি ভোর হবে ঠিক লাল।/ জীবনে থাকে চড়াই উৎরাই সংগ্রামে থাকে ধাপ/ মানুষ জাগলে ভেসে যায় সব অনাহূত অপলাপ।/ সময় আসে না, সময়ের আগে গুনে যাও তবে দিন/ শোধ দিতে হবে হিসাব খাতায় জমে গেছে যত ঋণ।/ ভেবো না মানুষ মুষড়ে পড়েছে গুটিয়ে নিয়েছে হাত/ আঘাত করেছো যত, জেনো তার পাবে ঠিক প্রতিঘাত।/ সাক্ষী আলোক মানুষ চালক আছে যত শুভ সাজ/ আনবে জনতা; সোনার দেশে জনতারই হবে রাজ। 

অন্যদিকে গতির অগতি ছড়ায় লিখেন— ধরি ধরি করেও তাকে ধরার শক্তি ছিল না!/ একটা মাসের জামিনে তাই দণ্ড দিয়েও দিল না?/ ছ মাস সাজায় হাসতে যাদের ঠোঁট আর হাসি নিল না/ তারা জাইনো ইউনূস সাহেব নয় তো মোটে খিলোনা!/ (একটা জাতি একটা নোবেল আর তো নোবেল হলো না

এই সম্মান এমন করে দোহাই পায়ে দলো না!)/ বিশ্ব ছিল তাকাই বলে আর ক্ষ্যাপাতে গেল না?/ ‘নিজ গতিতে চলা আইন’ তাই কি গতি পেল না!

জেন জি প্রজন্মের প্রতি তিনি লিখেন— এই যে ব্রো; বলছি তোমায়/ এই যে তরুণ যুগের অরুণ দুঃখ করো পোস্টে/ ভোট দেয় না বলে পচাও ইসিকে খুব রোস্টে।/ লিখছো কমেন্ট, দিচ্ছ আলাপ— ‘হচ্ছে সময় নষ্ট/ চোদ্দ বছর ভোটার তবু ভোট দিলাম না, কষ্ট!’/ বলছ ভালো মনের কথা, কিন্তু খুলে কর্ণ/এই কথাটা শুনো না ব্রো, লিখতে ভোটের বর্ণ—/ নামতে হবে পথে তোমায় ব্যাপার পুরা সাচ্চা/ লড়াই ছাড়া সের দূরে থাক, দেয় না তো কেউ কাচ্চা!/ছোট্টসোনা ও ভাই— ব্রো আজ পার হয় তোমার তিরিশ/ ভোটের কপাল কে দেয় মুছে ঘইসা পেপার শিরিষ!/ জানো যদি তাইলে উপায় করতে হবে এবার/ করতে হবে ভোট আদায়ে নিজকে নিজে ফেবার।/ নয় কি তোমার ভোট অধিকার আকাশ থেকে পড়বে/ তুমি যদি না লড়ো কে তোমার হয়ে লড়বে?/ তুমি লড়ো মিছিল গড়ো দেশটা কাঁপাও গর্জে/ জুলুম রোধে লড়াই তো প্রায় ফর্জে আইন— ফর্জে!/ সেই লড়াইয়ে নামলে সাপোর্ট জোরসে দেবে অন্যে/ নয় তো স্বপ্ন হয় না পূরণ, হও না যতই হন্যে।/ পথের দাবি পথ কাঁপিয়ে একসাথে সব তুললে/ গণতান্ত্রিক দেশের সাপোর্ট বাড়বে তখন মূল্যে।/ তোমার দেশে তোমার আওয়াজ সবার থেকে উচ্চ/ তুমি, তুমি লাখো তুমির শক্তি কত বুচ্চো!/ বিশ্ব সাপোর্ট লাগবে কাজে তোমরা হলেই মুখ্য/ এই যদি না বুঝো তবে বাড়বে ভোটের দুঃখ!

এই শতাব্দীর শুরুর দিকে সাবমেরিন কেবল নিয়ে তিনি লিখেন— সেই তো হলো, হলো তবে/ দশটি বছর লেট/ কি আর করা সকল কাজে/ এটাই জাতির ফেট। /তবুও ভালো জাগছে আশা/ সাবমেরিন কেবলে/ পিছিয়ে রবো আমরা আরো/ এসব কথা কে বলে।/ সবার সাথে এগিয়ে যাবো/ কাঁধে কাঁধে কাঁধ রেখে/ তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির যাবো/নতুন স্বাদ চেখে। 

বর্তমান সময়ে ই-বিজনেস বিশ্বব্যাপী রমরমা ব্যবসা। দুই যুগ আগেই তিনি ই বিজনেস ছড়ায় লিখেন—ই-বিজে বিজনেস/ কমে গেল বিজিনেস/ ইজি হলো যোগাযোগ/ঢাকা থেকে বন/ঝট পট আদেশে/এনে দেবে তা দেশে/কি লাগে কি কন।/ই-বিজ, ই-বিজ/ডায়র বা বিবিজ/যারা যেটা চান/ ক্লিক করে মাউজে/দরকারি ব্রাউজে/ই-বিজে যান। 

নিখিল ভারত শিশুসাহিত্য সংসদ সর্বভারতীয় সম্পাদক আনসার উল হক লিখেন— ছন্দের জাদুকররাই তো ছন্দ নিয়ে খেলতে ভালোবাসেন, মেতে ওঠেন ছড়া-কবিতার পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। গতানুগতিকতার বেড়া ভাঙচুর করতে পছন্দ করেন। জগলুলও এর ব্যতিক্রমী নন। তাঁর ছড়ার ভুবন এতটাই বিস্তৃত যে, আশপাশের পরিবেশ, নিত্যদিনের ঘটনা— সবই জীবন্ত হয়ে ধরা দেয় তাঁর লেখনীতে। যাপিত জীবনের সঙ্গতি-অসঙ্গতির খণ্ডচিত্র, সমাজ বাস্তবতা, রঙ্গব্যঙ্গ কিংবা নীতিহীন রাজনীতি— সবই থরে-বিথরে সাজানো থাকে তাঁর ছড়ায়। দু’একটা উদাহরণ দেওয়া যাক:
চালের দামে চান্দি গরম/ বাজার গরম বাগুনে/ চুলাই শুধু হয় না গরম/ ভাত চড়ানোর আগুনে। [একটা কিছু করেন] অথবা
লোকটা বড় মানি, তার/পাহাড়-প্রমাণ মান/দু’একখানা জুতার ঘায়ে/হয় না অপমান। [ফাংকোলা] কিংবা/ পরিসংখ্যান বোর্ড বসেছে/হিসেব কিতেব নিতে/বাংলাদেশের ছাগল কত/ভূমির বিপরীতে।/ সেই মোতাবেক নামল কাজে/দুই জুনিয়র কর্মী/রিপোর্ট দিল বোর্ডের কাছে/সার্ভে করে বর্মি।/হিসেব শুনে রাগে সাহেব/কাঁপছে থরো থরো/হয়নি বাপু, তিনটে ছাগল/ওর সাথে অ্যাড করো।/থতোমতো কর্মীরা কয়/বাদ গেল ফের কে?/সাহেব বলেন, তোমরা দুটো/এবং আমি হে! [ছাগল শুমারি]
রাজনৈতিক ছড়ার ক্ষেত্রেও তিনি অসাধারণ কারিশমা দেখান। যেমন তিনি দুই যুগ আগে তার লেখা ‘উল্টো নিয়ম’ ছড়ায় লিখছেন— ব্যক্তি থেকে দল বড় আর/ দলের চেয়ে দেশ/ বাস্তবে নেই এই বচনের/ এত্তটুকু রেশ।/ এ নিয়মটা উল্টে গেলেই/ খেয়াল করে কে তা?/ দেশের চেয়ে দল বড় তাই/ দলের চেয়ে নেতা! একই সময়ে তিনি দলীয়করণ ছড়ায় লেখেন— মন্ত্রী ডেকে রাজা হাঁকেন নোটিশ দিয়ে বলিও-/ এখন থেকে প্রশাসনে সবাই হবেন দলীয়,/ টার্মিনাল আর হলের পরে দখল হবে গলিও/ দলের নামেই চাঁদ উঠবে ফুটবে ফুলের কলিও!/ দলের নামে বাষ্প থেকে মেঘ হবে সব জলীয়/ দল-পরিচয় যাচাই করেই পড়বে খেতের পলিও,/ দলের নামে চলবে চ্যানেল, উড়বে ভ্রমর অলিও/ দলের প্রেমে ঘাটতি হলে ভাঙবে ঠ্যাঙের নলিও!
জগলুল হায়দার কাব্যছড়ায় ‘শব্দ ঋণ’ এ লেখেন— আমার পকেট দুপুর ভরা/ রোদের মিছিল সারি/ মাঝে মাঝে চালাই তাতে/ মেঘের ছায়া-গাড়ি।/ আমার দু’চোখ আকাশ ভরা/ দারুণ নীলের ছাঁচে/ ছড়িয়ে রাখি স্বপ্ন তাতে/ মাল্টি কালার কাচে।/ আমার হৃদয় জোসনা ভরা/ কুসুম কুসুম আভা/ ডেইলি আমি জ্বালাই তাতে/ নতুন আশার লাভা।/ আমার দু’পায় তুফান ভরা/ ঝড়ের মতো গতি/ রোজ কুড়িয়ে বেড়াই তাতে/ পথের লাভ ও ক্ষতি।/ আমার দু’হাত কাঙ্ক্ষা ভরা/ প্রার্থনাতে হাসে/ ফেরেশতারা শব্দ নিয়ে/ আমার বাড়ি আসে। মায়ের পায়ে বেহেশত লুটায় বইয়ে তিনি অভিনব ভঙ্গিতে শিশু মনের না বলা কথাকে প্রকাশ করেছেন মা মানেই সব আমার ছড়ায়— মা মানেই সব আমার/স্কুলের ব্যাগ/পানির জার/জুতার ফিতা/নকশি মোজা/পাটে পাটে গোছানো।/মা মানেই সব আমার/কাঁটা কম্পাস/রঙ পেনসিল/রুটিন খাতা
ইরেজার ও/সব ঝামেলা মোছানো।/মা মানেই সব আমার/চুলের সিঁথি/কপালে টিপ/শীতের পিঠা/সন্ধ্যা প্রদীপ/তসবি দানা চুমানো।/মা মানেই সব আমার/রুপালি চাঁদ/জোছনা রাত/স্বপ্ন আশা/কপালে হাত/ আরাম করে ঘুমানো।

কবি আসাদ চৌধুরী ছড়ায় মুগ্ধ হয়ে জগলুল হায়দারকে নিয়ে বলেন, ‘জগলুল প্রচণ্ড আধুনিক মানুষ। প্রচণ্ড আন্তর্জাতিক। পৃথিবীকে আপন ভাবা, প্রতিটি মানুষকে আপন ভাবা, ভাই ভাবা, পৃথিবীর সংকটকে নিজের সংকট ভাবা কিংবা এই বাংলাদেশে বসে পৃথিবীর সংকটকে তিনি খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। তিনি অস্ত্রের বিরুদ্ধে লড়েন, যুদ্ধের বিরুদ্ধে লড়েন, শান্তির স্বপক্ষে লড়েন। আমি তার লেখা পড়ে খুবই অভিভূত হয়েছি। তার হাত আরও শক্তিশালী হোক, মজবুত হোক। আমাদের জাতিকে চাবুক মেরে মেরে বিজ্ঞানের প্রতি, প্রযুক্তির প্রতি, আধুনিকতার প্রতি এবং আধুনিক বিশ্বের উপযোগী নাগরিক করার প্রতি, তিনি যেন এগিয়ে আসেন।’

আজীবন লিখে যেতে চান জগলুল হায়দার। মানুষের কথা, সমাজের কথা, সময়ের কথা যতদিন স্বতঃস্ফূর্তভাবে কলমের ডগায় আসে, ততদিনই। আর দেখতে চান এক পৃথিবী এক দেশ।

আজ ৮ অক্টোবর জগলুল হায়দারের ৬০তম জন্মদিন। তারুণ্যে উচ্ছল, সাহিত্যের উজ্জ্বল মানুষটির জন্মদিনে শুভেচ্ছা অনন্ত।

কাদের বাবু: শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার ও প্রকাশক

ইত্তেফাক/পিও