অবশেষে মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী বিপন্ন শহর রক্ষা বাঁধে সংস্কারের ছোঁয়া লেগেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে জোড়াতালি দিয়ে চলছে বাঁধের ধসে যাওয়া ও ভেঙে পড়া ব্লক স্থাপনের কাজ। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় শহর রক্ষা বাঁধে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শুধু অতিরিক্ত ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে ব্লক বসানো হচ্ছে। বাঁধের যেসব পয়েন্টে ব্লক ধসে পড়েছে ও ভেঙে গেছে শুধু সেসব স্থানেই ব্লক বসানোর কাজ করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষায় ধলেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধের বেশিরভাগই এখন পানির নিচে। পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু বাঁধের উপরের অংশের ধসে পড়া ব্লক সংস্কার করছে। এক কথায় কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে বলে মনে করছেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা।
জানা গেছে, গেল বর্ষা মৌসুমে ব্লক ধসে বিপন্ন হয়ে উঠে ধলেশ্বরী তীরের এই রক্ষা বাঁধ। গেল বছরের আগস্টে প্রবল বর্ষণের মুখে শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ লঞ্চঘাট সংলগ্ন বস্তির লোকজন বাঁধ কেটে নালা তৈরি করলে শহর রক্ষা বাঁধের ব্লকে ধস দেখা দেয়। একই সঙ্গে শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, শহরের উপকণ্ঠ নয়াগাঁও এবং মীরেশ্বরাই এলাকার অসংখ্য পয়েন্টে এই রক্ষা বাঁধে ব্লক ধস নামে অনেকদিন আগেই।
হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকা সংলগ্ন পয়েন্টে ধলেশ্বরীর তীরে বালুবাহী বাল্কহেড, পণ্যবাহী ট্রলার ও কার্গো নোঙর করার কারণে শহর রক্ষা বাঁধ বিপন্ন হয়ে ওঠে। তাছাড়া ধলেশ্বরীর তীরে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে গড়ে উঠা বালু ব্যবসা ও ড্রেজারের পাইপ বসানোর কারণেও হুমকির মুখে পড়ে রক্ষা বাঁধ। এমন পরিস্থিতিতে গেল বছরের ১৪ আগস্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী পরিচালক সুব্রত দাসের নেতৃত্বে শহর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন টিম। পরবর্তীতে পরিদর্শন টিমের রিপোর্ট পেশ করার পরিপ্রেক্ষিতে বিপন্ন শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা গেল বছরই। এদিকে, দীর্ঘ সময় পর হলেও সম্প্রতি শহর রক্ষা বাঁধের সংস্কার শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মোবাইল ফোনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়াল মিয়া জানিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের সংস্কার কাজ শেষ পর্যায়ে। যেসব স্থানে বড়ো ধরনের ধস ও গর্ত রয়েছে, শুধু সেসব স্থানেই ব্লক বসানো হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তাই বড়ো ধরনের গর্ত ও ধসে পড়া ব্লক স্থাপনের মধ্য দিয়ে শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বাঁধ সংস্কারে প্রায় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মাত্র ১২ লাখ টাকায় শহর রক্ষা বাঁধে সংস্কার কাজ চলছে।
