গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড গণহত্যার জন্ম দিয়েছে। এটি মানবতার জন্য লজ্জার। আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রধানমন্ত্রী ইদি রামার সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
বলকান অঞ্চলের কয়েকটি দেশে সফরে বেরিয়ে প্রথম আলবেনিয়ায় থামলেন এরদোয়ান। আলবেনিয়া থেকে এরই মধ্যে সার্বিয়া গেছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, ‘গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ও ইসরায়েলের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হিসেবে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। গাজায় এক বছর ধরে চলমান গণহত্যা পুরো মানবজাতির জন্য লজ্জার।’
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায়। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী, এ হামলায় ১ হাজার ২০৩ জন নিহত হন, যাদের বেশির ভাগ বেসামরিক মানুষ।
অন্যদিকে, হামাসের হামলার অজুহাতে ওই দিন থেকেই গাজায় তাণ্ডব শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এক বছর পরও তাদের তাণ্ডব চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি হামলায় এ উপত্যকায় ৪২ হাজার ৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের এক বড় অংশ নারী ও শিশু। জাতিসংঘ বলেছে, নিহত ব্যক্তিদের এ সংখ্যা বিশ্বাসযোগ্য।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘গাজার কসাই’ আখ্যায়িত করে অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন তাকে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, গাজায় নেতানিয়াহু সরকারের নেতৃত্বে চলমান আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিশ্বব্যবস্থাকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এরদোয়ান ওই দিন প্রধানমন্ত্রী ইদি রামার সঙ্গে তিরানা মসজিদ উদ্বোধন করেন। আলবেনিয়া সফর শেষে ইতিমধ্যে সার্বিয়া গেছেন এরদোয়ান। সেখানে বেলগ্রেড বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিস।
