ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) হামাসের পক্ষ থেকেও ইয়াহিয়া সিনওয়ারের নিহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ-এর ৮২৮তম বিসলামাক ব্রিগেডের একটি ইউনিট গত বুধবার রাফাহ অঞ্চলের তাল আল-সুলতান এলাকায় টহল দিচ্ছিল। তারা তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি চিহ্নিত করে এবং তাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তাদের সবাই নিহত হয়। সেই সময় সংঘর্ষটি বিশেষ কিছু মনে হয়নি এবং সেনারা বৃহস্পতিবার সকালের আগ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ফিরেও যায়নি।
এরপর বৃহস্পতিবার যখন মরদেহ পরীক্ষা করা হচ্ছিল তখন একজনের সঙ্গে হামাসের নেতার অদ্ভুত ধরনের মিল লক্ষ্য করা যায়। তবে আত্মঘাতী কোনো ফাঁদ থাকার ঝুঁকি বিবেচনায় দেহটি সেখানে রেখেই দেওয়া হয়।
সিএনএন বলছে, মৃতদেহটি সিনওয়ারের কিনা তা নিশ্চিত করতে আঙুল কেটে নেওয়া হয়। সিনওয়ারের লাশের ময়নাতদন্তকারী ইসরায়েলের প্রধান প্যাথলজিস্ট চেন কুগেল বলেছেন, হামাস নেতা মাথায় গুলির আঘাতে নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে সিনওয়ারের লাশ ইসরায়েলের কাছে আছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় বন্দি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে এখন সিনওয়ারের মৃতদেহ দর কষাকষি হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। স্থানীয় এক মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে গোপন স্থানে সিনওয়ারের লাশ রাখা হয়েছে।
সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, যদি হামাস সিনওয়ারের মরদেহের বিনিময়ে জীবিত এবং মৃত ইসরায়েলিদের ফেরত দিতে রাজি থাকে, তাহলে ভালো। শুধুমাত্র জিম্মি বিনিময়ের মাধ্যমেই সিনওয়ারের মরদেহ ফেরত নিতে পারে হামাস। নাহলে সিনওয়ারের মরদেহ কখনো গাজায় নিতে দেওয়া নাও হতে পারে।
