বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি ভাঙা পুলের কারণে ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পুল নয়, যেন মরণফাঁদ। জনগুরুত্বপূর্ণ এ পুলটির বেহাল দশার কারণে মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নে মঠবাড়ী গ্রামের বড় খালের সংযোগ পুলটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। নড়বড়ে হয়ে পুলটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শত শত শিক্ষার্থীসহ ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ এ পুল দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে। জোড়াতালি দিয়ে পুলটি চলাচলের ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। খালের দুই পাড়ে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি আলিম মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। খরস্রোতা খালের ওপরের এ পুল দিয়ে শিশু ও নারীরা চলাচল করতে ভয় পান। ঝড়বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় অভিভাবকদের।
শিশু শিক্ষার্থী জান্নাতি, আবু জাহের, আব্দুল্লাহ, তামান্নাসহ অনেকেই বলেন, আমাদের স্কুলে যেতে এ ভাঙা পুল পার হতে হয়। ঝুঁকি নিয়ে আমরা পুল পার হই। ঝড়বৃষ্টিতে আমরা স্কুলে যাই না। স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আহমেদ, লাল মিয়া হাওলাদার, সাধনা রানী মণ্ডল, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন হাওলাদার, মারুফ হাওলাদার, আল মামুন হাওলাদার বলেন, পুলটি ভেঙে পড়ার এক বছরের বেশি সময় পার হলেও মেম্বার, চেয়ারম্যানসহ কারোরই কোনো মাথাব্যথা নেই। দিনের পর দিন আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। এ ভাঙা পুল পার হতে গিয়ে পুল থেকে পড়ে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছে।
স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ হলে কাজটি শুরু হবে
-উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হারুন- অর রশিদ বলেন, পাঁচ বছর আগে ভেঙে যাওয়ায় এ পুলটি ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে সংস্কার করা হয়েছিল। গত বছর পুনরায় ভেঙে পড়ায় নতুন করে মেরামত করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদে আবেদনও করা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিনিয়ত মঠবাড়ী, চন্দনতলা, একরামখালী, ঠাকুরনতলা, কালীবাড়ী, জিউধরা, লক্ষ্মীখালী, বটতলা, বরইতলাসহ ১০ গ্রামের ৬-৭ হাজার মানুষের ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হয়। তিনি এ জনগুরুত্বপূর্ণ পুলটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারসহ একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, মঠবাড়ি গ্রামের সংযোগ খালের গুরুত্বপূর্ণ পুলটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে তিনি অবহিত আছেন। স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ হলে কাজটি শুরু হবে।

