চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএতে নকশা অনুমোদনে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে উচ্চ আদালতে শতাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলা পরিচালনায় বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। সিডিএর কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নির্মাণ বিধিমালা না মেনে নকশার অনুমোদন দিয়েছে। এতে তারা আর্থিকভাবে প্রচুর লাভবান হয়েছেন। এদিকে অভিযোগ উঠেছে সিডিএর নকশা অনুমোদন না নিয়েই এস আলম গ্রুপ নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে নির্মাণ করেছে ২২ তলাবিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এস আলম গ্রুপ নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে নকশা অনুমোদন ছাড়াই ২২ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছে। নির্মাণকাজ শেষও করেছে। পরবর্তীকালে সিডিএর নগর উন্নয়ন কমিটি ও বিশেষ প্রকল্প অনুমোদন কমিটি নকশা অনুমোদনের জন্য কিছু শর্ত প্রদান করে। কমিটি সিডিএর অথরাইজড অফিসারকে আরোপিত শর্ত মানা হচ্ছে কি না তদারকির দায়িত্ব প্রদান করে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত শর্ত পূরণ নিয়ে এস আলম গ্রুপের কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস ইত্তেফাককে বলেন, ‘এস আলম গ্রুপ নকশা অনুমোদন ছাড়াই বিল্ডিং নির্মাণ করেছে। পরবর্তীকালে নগর উন্নয়ন কমিটি ও বিশেষ প্রকল্প কমিটি নকশা অনুমোদনের জন্য ১৫-২০টি শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত পূরণ করতে না পারায় তারা নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেনি। এখন বিল্ডিংটির নকশাবহির্ভূত অংশ ভাঙা হবে নাকি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হবে তা বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’
এদিকে সিডিএ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত ১৫ বছরে নকশা অনুমোদন নিয়ে অনেক অনিয়ম হয়েছে। ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীরা নানাভাবে প্রভাবের কারণে নকশা অনুমোদনে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে নকশা অনুমোদন নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করতে গিয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে অনেকেই। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করলে সিডিএ নোটিশ জারি করে স্থাপনা বন্ধের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীকালে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিক উচ্চ আদালতে সিডিএর নোটিশের বিরুদ্ধে রিট করেন। আদালত সিডিএর নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করে। এতে এসব মামলা সিডিএকে বছরের পর বছর পরিচালনা করতে হচ্ছে। মামলার পেছনে ব্যয় হচ্ছে প্রচুর অর্থ।
জানা যায়, নগরীর আশকার দীঘিপাড় এলাকায় জনৈক সজল চৌধুরী গং ১৭ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেয়। ভবনটি পাহাড়ের অংশ বিশেষ কেটে নির্মাণ করতে হচ্ছে। বিল্ডিংয়ের পেছনে লাগোয়া ৫০ ফুট উচ্চতার পাহাড় রয়েছ। কিন্তু সিডিএ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জেনেশুনে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন করেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলাসহ অন্যরা প্রতিবাদ করলে সিডিএ সংশ্লিষ্ট ভবন মালিককে নোটিশ প্রদান করে। নোটিশ পাওয়ার পর ভবন মালিক উচ্চ আদালতে রিট করেন। আদালত সিডিএর নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।
এছাড়া নগরীর হেমসেম লাইন এলাকায় গোফি ধর গংকে ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেন। নকশা অনুমোদনের সময় ৫ ফুটের রাস্তাকে ১২ ফুট দেখানো হয়েছে। এতে নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে পাশের বাসিন্দা সিডিএতে অভিযোগ করেন। পরবর্তীকালে একই নিয়মে সিডিএ নোটিশ দিয়ে এড়াতে চায়। কিন্তু ভবন মালিক উচ্চ আদালতে রিট করলে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়।
সিডিএ কর্মকর্তারা জানান, নকশা অনুমোদন নিয়ে বিগত সময়ে এ ধরনের অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বিগত সময়ে দুর্নীতি নিয়ে অনেক কর্মকর্তা মামলার আসামি হয়েছে। দুদকে মামলা হয়েছে। তারপরও অভিযুক্তরা এখনো সিডিএতে বহাল তবিয়তে রয়েছে।
