কটিয়াদী হাসপাতালে জনবল ও চিকিৎসক সংকট, দুর্ভোগে রোগীরা

  • নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
  • রেডিওলোজিষ্টের অভাবে পড়ে আছে এক্সরে মেশিন
  • অপারেশন থিয়েটার থাকলেও নেই অ্যানেস্থেসিয়া ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৪, ১২:১০

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের চিকিত্সার একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনও প্রশাসনিক অনুমোদন হয়নি। তাই কটিয়াদী উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের চার লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল, ৪টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সব মিলিয়ে উপজেলায় চিকিত্সাসেবার জন্য ৩১ জন চিকিত্সকের পদ থাকলেও ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। ১৭ জন চিকিত্সকের পোস্টিং থাকলেও ৫ জন চিকিত্ক ডেপুটেশনে রাজধানী ঢাকা কিংবা তাদের সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন। মাতৃত্ব ছুটিতে আছেন ১ জন। শুধু বেতন ভাতার সময় তারা কটিয়াদীতে আসেন। দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে এ অবস্থা। ফলে উপজেলার সাধারণ মানুষ চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিত্সার প্রয়োজনে তারা ছুটছেন জেলা শহর কিংবা বিভিন্ন জায়গার প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আছে উন্নত যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ অপারেশন থিয়েটার। কিন্তু অ্যানেস্থেসিয়া ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ না থাকায় বছরের পর বছর ধরে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না সেটি। ফলে সরকারের অর্ধকোটি টাকার যন্ত্রপাতি কোনো কাজে আসছে না। বরং নষ্ট হচ্ছে। আছে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, নেই রেডিওলোজিষ্ট। ফলে তালাবদ্ধ রুমে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে এক্সরের ইকুইপমেন্ট। আছে শিশু, মেডিসিন, গাইনী ও সার্জারিসহ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পদ কিন্তু নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। ফলে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উপজেলার ৪টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র চিকিত্সকশূন্য অবস্থায় রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে রয়েছেন একজন আবাসিক ও চারজন মেডিকেল অফিসার, দুই জন কনসালটেন্ট ও একজন ইউনানী চিকিত্সক। এই ৮ জন দিয়ে চলছে উপজেলাবাসীর চিকিত্সা সেবা। মাতৃত্ব ছুটিতে আছেন ১(এক) জন। তাদের বাইরে ডেপুটেশনে রাজধানীর কুর্মিটোলা ৫০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানাসথেলজিষ্ট) ডা. ফাহিমা আহমেদ, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনষ্টিটিউটও হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. মো. হাবিবুর রহমান মৃধা, সিলেট এমজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. কাজী ফারহানা বিনতে শামীম, কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী সার্জন/সমমা। ডা. মো. রিজুয়ানুল হক ও মেডিকেল অফিসার ডা. সজীব কুমার ঘোষ। এ ছাড়াও সংযুক্তিতে আছেন এসএসিএম ও (চাকমু) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কালিহাতি টাঙ্গাইলে-১জন, ওয়ার্ড বয় রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাকুন্দিয়ায়।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর চরপুক্ষিয়া গ্রামের কুলছুম (৩৫), করগাঁও লাহৌন গ্রামের আয়েশা (৬০), মসূয়া কাজীরচর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনসহ (৫০) আরও অনেকের সঙ্গে কথা হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ কোনো ডাক্তার না থাকায় তাদের জেলা সদরে যেতে হয়। বিশেষ করে প্রসূতিদের জটিল প্রসব ও সিজারিয়ান সেবা নিতে যেতে হয় ৩০ কি.মি. দূরে কিশোরগঞ্জে, না হয় বেসরকারি ক্লিনিকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫টি জুনিয়ার কনসালটেন্ট পদ দীর্ঘদিন থেকেই শূন্য রয়েছে। এছাড়া টেকনোলজিষ্টসহ বিভিন্ন সহায়ক জনশক্তির ৭৩টি পদ শূন্য আছে। আরও শুন্য রয়েছে প্রধান সহকারীর পদে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.(ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা ডা. ঈশা খান ইত্তেফাককে বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ শূন্যপদ পূরণে জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে আমাদের যেটুকু রয়েছে সেটুকু দিয়েই সাধ্যমত সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

ইত্তেফাক/এএইচপি