নতুন গাড়ি শিল্প ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজার

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ২০:৫০

 

ন তুন শিল্প মানেই নতুন বিনিয়োগ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। তবে সে সুযোগ যেন বিদ্যমান কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষতিকর না হয়, সেদিকটাও জরুরি। বাংলাদেশে নতুন গাড়ি শিল্প ও এর বাজার নিয়ে অনেক আলোচনাই হয়েছে। সর্বশেষ নতুন গাড়ি শিল্প নিয়ে একটি উদ্যোগের কারণেই এই লেখার অবতারণা। গত ৪ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান পাবলিক-প্রাইভেট অর্থনৈতিক সংলাপে।

জাপানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে অটোমোবাইল শিল্প স্থাপনের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। কিন্তু অটোমোবাইল শিল্প স্থাপনের জন্য বাংলাদেশে ‘রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি বন্ধ করতে হবে’ মর্মে বাংলাদেশ সরকারের নিকট শর্ত দেয়া হয়েছে। যা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের নতুন শংকায় ফেলে দিয়েছে। বিগত ৪০ বছর ধরে তিলেতিলে এ সেক্টরটি গড়ে উঠেছে। এ খাতে বিপুল সংখ্যক আমদানিকারক/ ডিলারের আবির্ভাব ঘটেছে, সৃষ্টি হয়েছে বিপুল কর্মসংস্থান এবং অর্জিত হয়েছে কারিগরি সামর্থ্য। ওয়ার্কশপ ব্যবসা, বিক্রয়োত্তর সেবা, রি-বিল্ডিং এ সমস্ত পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক দক্ষ প্রকৌশলী, কারিগর, দক্ষ শ্রমিক শ্রেণি গড়ে উঠেছে। সৃষ্টি হয়েছে শত-সহস্র লোকের কর্মসংস্থান। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাসঙ্গিকতায় এবং উপমহাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ খাত থেকে বছরে প্রায় অর্ধ বিলিয়ন টাকা রাজস্ব আহরিত হচ্ছে। আমদানি পর্যায়ে প্রদত্ত কর ছাড়াও অভ্যন্তরিণ ক্ষেত্রেও এই খাতের প্রতিষ্ঠানসমূহ বিক্রয় সেবার ওপর ভ্যাট, নিবন্ধন ফিস, রোড ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমে একটি ব্যাপকভিত্তিক কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রেখে আসছে। এ রকম একটি খাতকে বন্ধ করার পরিণামে রাজস্ব হারাবে সরকার যা অর্থনীতির জন্য হতে পারে আত্মঘাতী। এখাতে অনেকেই আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের কথা বলে। বলা আবশ্যক যে, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি শুধুমাত্র জাপান হতে আমদানি করা হয়ে থাকে। জাপান সরকারের অটো এপ্রাইজাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রতিমাসে প্রকাশিত ইয়েলো বুকে নতুন গাড়ির মূল্যের ভিত্তিতে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারিত হয়। ইয়েলো বুক জাপান সরকার কর্তৃক প্রকাশিত হওয়ায় এখানে আন্ডার ইনভয়েসের অবকাশ নেই।

উন্নত ও অনুন্নত নির্বিশেষে বিশ্বের সর্বত্র রিকন্ডিশন্ড গাড়ি সমাদৃত। জাপান বা যুক্তরাষ্ট্রের মত উন্নত দেশগুলোতেও নতুনের চেয়ে পুরাতনের সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি শুধুমাত্র জাপান থেকে আমদানি করা হয়। সুতরাং এর মান, পরিবেশ দূষণ, শুল্ক মূল্য নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়াদি সম্পর্কে জাপান সম্যক অবগত। জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্যের বিশাল অংশ দখল করে আছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসা।

আমরা শিল্পায়নের জোর সমর্থক। কিন্তু একটি সুপ্রতিষ্ঠিত খাতকে বন্ধ করে শিল্পায়ন করতে হবে কেন? স্বল্প পরিসরের বাজারের মোটরগাড়ি শিল্পকে বিশেষ সুবিধা দিতে হবে। ছাড় দিতে হবে বিভিন্ন প্রকারের কর সুবিধা এবং প্রণোদনা। একটি প্রতিষ্ঠিত খাতকে বন্ধ করে একটিমাত্র কোম্পানিকে সুযোগ করে দেওয়া রাজস্ব প্রাপ্তির বিবেচনায়ও ঝুঁকিপূর্ণ। আশাকরি জাপানি পক্ষ অবশ্যই পূর্ণ স্টাডি করে বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আবার বাংলাদেশ সরকারকেও বিষয়টি ভাবতে হবে।

 

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস

ইম্পোর্টার্স এন্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বারভিডা