বিদেশি বিনিয়োগপ্রবাহ বেড়েছে

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ২০:৫১

g এম এ মাসুম

 

বৈশ্বিক বিনিয়োগপ্রবাহে ভাটা সত্ত্বেও বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ (এফডিআই) বেড়েছে। দেশে ২০১৮ সালে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে ১৪৬ কোটি ১৮ লাখ ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে এক বছরে এফডিআই বেড়েছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। সার্বিকভাবে বিশ্বে এফডিআই কমলেও বাংলাদেশে বেড়েছে। এছাড়া বিনিয়োগ বেড়েছে দক্ষিণ এশিয়াতেও। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পেরেছে ভারত। এর পরিমাণ ৪ হাজার ২৮৮ কোটি ডলার, যা এ অঞ্চলের আটটি দেশের মধ্যে সর্বাধিক। দক্ষিণ এশিয়ায় মোট এফডিআইয়ে ৭৮ শতাংশ পেয়েছে ভারত। আর ৩৬১ কোটি ডলার বা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ পেয়ে বাংলাদেশ রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপ। দক্ষিণ এশিয়ার বাকি পাঁচটি দেশের চেয়ে বিনিয়োগ আকর্ষণে আমরা এগিয়ে আছি ঠিকই, কিন্তু ভারতের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধানটি আকাশ-পাতাল।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকেই বৈশ্বিক এফডিআইয়ের গতি নিম্নমুখী। ২০১৬ সালে বৈশ্বিক এফডিআইয়ের হার আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে যায়। এ ধারা অব্যাহত রেখে গত বছরও ২০১৭ সালের তুলনায় বৈশ্বিক এফডিআই কমেছে ১৩ শতাংশ। যদিও দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধারা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় এফডিআই বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সব মিলিয়ে গত বছর বৈশ্বিক মোট এফডিআই প্রবাহের ৪ শতাংশ এসেছে দক্ষিণ এশিয়ায়, যার আর্থিক পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪২০ কোটি ডলারে।

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রধান উপাদান হলো সস্তা শ্রম। কিন্তু এখন শুধু সস্তা শ্রম দিয়ে খুব বেশি বিনিয়োগ আনা যাবে না। সে জন্য তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাতে হবে। একইসঙ্গে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, উন্নত অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দূর করতে হবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও। সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে, যেসব শিল্প দেশের পুঁজি বাড়াবে এবং অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ঋণের জোগান বাড়ানো অপরিহার্য, তা বলাই বাহুল্য। বস্তুত বেসরকারি বিনিয়োগে অর্থায়নের প্রধান দুটি উত্স ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। পুঁজি স্বল্পতার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সর্বাগ্রে পুঁজির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ঋণের সুদহারও সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিল্পের জন্য জমি প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে সরকারের পুরো প্রশাসন যন্ত্রকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হতে হবে। দেশে পর্যাপ্ত বেসরকারি বিনিয়োগ না হলে অর্থবছর শেষে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব নয়। কাজেই দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

বিনিয়োগসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি ও গ্যাস-বিদ্যুতের মতো ভৌত অবকাঠামোগত সম্পদে ঘাটতির পাশাপাশি বিনিয়োগের সার্বিক পরিবেশে ব্যাপক অস্বস্তি, অস্বচ্ছতা ও বিভ্রান্তি রয়েছে বাংলাদেশে। এ খাতের সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

ছবি : ইন্টারনেট