ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী হেনস্তা, আপত্তিকর মন্তব্য, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ইন্টারনাল মার্কস কম দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়ে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে তাকে চাকরি থেকেও অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। এর আগে গত ৮ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপাচার্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির ডাকে ওই শিক্ষকের ক্যাম্পাসে আসার কথা জানতে পেরে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের সামনে থেকে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সহকারী অধ্যাপক মো. হাফিজুল ইসলামের ছবি সম্বলিত কুশপুতুল নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় সেখানে তারা কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে তাতে জুতা নিক্ষেপ করে। পরে কুশপুত্তলিকাটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, আজ (মঙ্গলবার) তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারের জন্য হাফিজ স্যার ক্যাম্পাসে আসার কথা ছিল এজন্য আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করি। মেইন গেটে তার কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। যতক্ষণ না তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়, ততক্ষণ এ আন্দোলন চলমান থাকবে। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ পরিবার তাকে এই ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এবং তাকে বয়কট করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, তদন্ত কাজে তাকে ক্যাম্পাসে আসতে আমরা বাঁধা দিচ্ছি না। এটা আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার প্রত্যেকটি অপকর্মের প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। তদন্তের মাধ্যমে তার এসব অভিযোগ অবশ্যই প্রমাণিত হবে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী হেনস্তা, আপত্তিকর মন্তব্য, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন-সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে ২৭ দফা অভিযোগ করলে উপাচার্য ৮ অক্টোবর অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফকে আহ্বায়ক ও সহকারী প্রক্টর ড. খাইরুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ওই শিক্ষকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক এ এইচ এম নাহিদ বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমি বিব্রত। যেহেতু তদন্তাধীন বিষয় এবং কমিটি আমাকেও ডেকেছিল, যা বলার কমিটিকে বলেছি। আমি আর মন্তব্য করছি না।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ জানান, অভিযোগ তদন্তে সোমবার আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আজ মঙ্গলবার বিভাগের শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত হাফিজুল ইসলামের আজ ক্যাম্পাসে আসার কথা থাকলেও তিনি নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে সাক্ষাৎকারের জন্য ক্যাম্পাসে আসেন নি। তার সাক্ষাৎকার কীভাবে নেওয়া যায় সেবিষয়ে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের তদন্ত কার্যক্রম শেষের দিকে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।

এইচএসসির ফল বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষাবোর্ডে তালা
গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেবে জবি