প্রোটিয়াদের সামনে ব্যাট চলে না মুমিনুলের! 

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ১১:২৬

সাদা পোশাকে দেশের ক্রিকেটের ব্যাটিং লাইনআপে ভরসার এক নাম মুমিনুল হক। সাদা পোশাকে এই ফরম্যাটের বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটার নামেও ডাকা হয়। তবে মুমিনুলের মাঠের পারফরম্যান্সে সেসবের ছাপ খুব বেশি একটা দেখা যায় না। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তো ব্যাটই চলে না তার। দলটির বিপক্ষে তার ব্যাট হাতে পরিসংখ্যান দেখার পর নিশ্চয়ই অনেকে ভিরমিও খেতে পারেন। পরিবর্তন হয়নি চলমান মিরপুর টেস্টেও। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪ রান করে আউট হওয়ার পর গতকাল মেরেছেন 'ডাক'। 

এতেই মিরপুরে টেস্ট ফরম্যাটে সাব্বির রহমানকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডাক মারার কীর্তি নিজের নামে ফেলে রেখেছেন মুমিনুল। আর আগে থেকেই তো দখলে নিয়ে রয়েছেন এই ফরম্যাটে দেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডাক মারার কীর্তি। আর একটি ম্যাচে ডাক মারলেই পৌঁছে যাবেন শীর্ষে। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংস খুব বেশি একটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। তবে বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকা দাঁড় করিয়েছে বড় সংগ্রহ। তাতে গতকাল বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে লক্ষ্য দাঁড়ায় প্রোটিয়াদের ২০২ রানের সংগ্রহ টপকে ম্যাচের টার্গেট দাঁড় করানো। 

এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকবে দলের সেরা খেলোয়াড়ের ব্যাটের দিকে। ছিল সেটাই, মুমিনুলের দিকে তাকিয়ে দেশের ক্রিকেট সমর্থকরা অনেকে হয়তো ভাবছিল, তিনি ভারতে কানপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসের মতো সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেবেন। তবে তা হয়নি, বরং প্রোটিয়াদের ৩ বল খেলে কোনো রান না করেই ধরেছিলেন সাজঘরের পথ। তার এমন দৃষ্টিকটু আউটে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই চাপে পড়ে যায় দল। এটি ছিল টেস্ট ফরম্যাটে মিরপুরে তার ৪ ও ক্যারিয়ারের ১৫তম ডাক। 

আর এই দুই জায়গায়ই লজ্জার কীর্তি গড়ে শীর্ষস্থানে উঠতে তাকে খেলতে হবে একটি মাত্র ডাকের ইনিংস। যদিও টেস্ট ফরম্যাটে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে মুমিনুলের এমন হতশ্রী ব্যাটিং নতুন কিছু নয়। ২০১৩ সালে জাতীয় দলের টেস্ট ফরম্যাটে অভিষেক হয় তার। এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে খেলেছেন ৬৬টি টেস্ট ম্যাচ। এ সময় সাত ম্যাচ খেলেছেন প্রোটিয়াদের বিপক্ষে। এই সাত ম্যাচের ১২ ইনিংসে পাননি কোনো সেঞ্চুরির দেখা, ফিফটি করেছেন এক ইনিংসে। ওটা ছাড়া দুটা ইনিংস বাদে সবগুলোতেই তিনি ফিরেছেন দুই সংখ্যার রানের ঘরে পৌঁছানোর আগেই। 

মজার বিষয় হচ্ছে, প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সর্বশেষ ৯ ইনিংসে মুমিনুল করেছেন মাত্র ৩২ রান! এই দলের বিপক্ষে ১২ ইনিংসে তার সর্বমোট সংগ্রহ ১৫৫ রান। ২০১৭ সালে পচেফস্ট্রমে ৭৭ রানের একটি ইনিংসটি খেলেছিলেন। এছাড়া ২০১৫ সালে মিরপুরে ৪০ রানের একটি ইনিংস আছে। সর্বশেষ দুই অঙ্কের স্কোর (১১) করেছিলেন সেই ২০১৭ সালে ব্লুমফন্টেইনে। এরপর যেন ব্যাট করতে ভুলে গেছেন। পরের ছয় ইনিংসে তার রানের সংখ্যা যথাক্রমে ০, ২, ৬, ৫, ৪, ০। এবার ভাবার বিষয়, দেশের টেস্ট বিশেষজ্ঞ খ্যাতি পাওয়া ক্রিকেটারের যদি এমন করুণ দশা হয়, তাহলে লাল বলে দেশের বাকি ক্রিকেটারদের কী হাল!

ইত্তেফাক/জেডএইচ