ফেরার প্রত্যাশা ছিল না ডি ভিলিয়ার্সের

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ২১:১৮

স্পোর্টস রিপোর্টার

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল তাদের ছিল না। তাই বলে এতটা খারাপও কেউ আশা করেনি। ৯ ম্যাচে মাত্র ৩ জয় নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর প্রোটিয়াদের এই বিপর্যয়ের পেছনে অনেকেই এবি ডি ভিলিয়ার্সের অনুপস্থিতিকে একটা কারণ হিসেবে দেখছেন।

বিশ্বকাপ চলা অবস্থায়ই খবর প্রকাশিত হয় যে, এই বিশ্বকাপটা অবসর ভেঙে ফিরে খেলতে চেয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। কিন্তু দল ঘোষণার মাত্র এক দিন আগে ফেরার দাবি করায় সে দাবিকে পাত্তা দেয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। এমনও বলা হচ্ছে যে, ডি ভিলিয়ার্স এই দাবি তুলে দলের মনোযোগ নষ্ট করে দিয়েছেন। এতদিন পর সেই ব্যাপার নিয়ে মুখ খুলেছেন একসময়ের বিশ্বসেরা এই ব্যাটসম্যান। বলেছেন, তিনি দলে ফিরতে চেয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু কোনো দাবি করেননি। আর দলের মনোযোগ নষ্ট করারও কোনো ইচ্ছা তাঁর ছিল না।

টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর টুইটারে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চেয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। তিনি কেন এখন কথা বলছেন, সেটা বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘এখন প্রোটিয়াদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে। ফলে এখন কথা বললে তাদের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। আমি এই সময়ে আমার বিপক্ষে ওঠা কিছু অযৌক্তিক সমালোচনার জবাব দিতে চাই। আমাদের এর মধ্যে বারবার এই বিষয়ে মন্তব্য করতে এবং খুলে বলতে বলা হয়েছে। আমার যে ব্যক্তিগত কথোপকথন সামনে চলে এসেছে, সেটা নিয়ে আমি ব্যাখ্যা দিতে চাই।’

এরপর ঘটনাক্রম বর্ণনা করতে গিয়ে ‘মিস্টার থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি’ নামের এই সাবেক তারকা বলেছেন, ‘প্রথমত, আমি ২০১৮ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলাম। কারণ, আমি আমার কাজের বোঝা কমাতে চেয়েছিলাম এবং আমার স্ত্রী ও বাচ্চা ছেলের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে চেয়েছিলাম। কেউ কেউ বলেছেন, আমি স্রেফ অর্থের কারণে অবসর নিয়েছিলাম। তারা ভুল বলেছে। বাস্তবতা হলো, আমি বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে খেলার জন্য লোভনীয় সব অর্থের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। আমি চেয়েছি, বছরে তিন মাসের বদলে কমপক্ষে আট মাস আমি পরিবারের সঙ্গে যেন কাটাতে পারি।’

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের পক্ষে অনেকে বলেছেন, এই সময়ে ডি ভিলিয়ার্সকে ফেরার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু ডি ভিলিয়ার্স বলেছেন, তাঁর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বোর্ডের হয়নি, ‘এই মাসগুলোতে আমার সঙ্গে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার বা ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমি তাদের ফোন করিনি। তারাও আমাকে ফোন করেনি। আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর প্রোটিয়ারাও ওটিস গিবসনের অধীনে ও ফাফ ডু প্লেসির অসাধারণ নেতৃত্বে এগিয়ে গেছে।’

এরপর তিনি বলেছেন যে, কীভাবে তিনি ফাফের কাছে তাঁর ফেরার সম্ভাবনার কথাটা বলেছিলেন, ‘ফাফ ও আমি একই স্কুলে পড়তাম। আমরা তখন থেকেই বন্ধু। বিশ্বকাপ দল ঘোষণার দুই দিন আগে আমি ওর সঙ্গে আলাপ করছিলাম। আমি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ভালো ফর্মে ছিলাম। আমি তখন ওকে বললাম, যদি দরকার হয়, আবারও বলি, যদি দরকার হয় তাহলে আমি তৈরি আছি। কিন্তু আমি কোনো দাবি করিনি। এমনকি আমাকে দলে ফেরানোর প্রত্যাশাও করিনি।’