ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভারতীয় অবৈধ চিনি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর সেনাবাহিনীর অভিযান চালিয়ে শ্যামগঞ্জ বাজারের বাবুল সরকারের দোকান থেকে ১ হাজার ৮৫০ কেজি ভারতীয় অবৈধ চিনি উদ্ধার এবং জড়িত একজনকে আটক করেছে।
জানা যায়, চোরাই পথে আসা ভারতীয় চিনি বিক্রি নিয়ে উপজেলার নওপাই গ্রামের শামীম ও বেলতলী গ্রামের ফরসালের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের জেরে বুধবার দুপুরে প্রথমে বেলতলী গ্রামের রহিমকে ধরে নিয়ে যায় শামীম গ্রুপের লোকজন, পরবর্তীতে নওপাই গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে বিল্লালকে শ্যামগঞ্জ পশ্চিম বাজার থেকে ধরে নিয়ে যায় বেলতলী গ্রামের ফয়সালের লোকজন। বিকালে উভয়কে ছেড়ে দিলেও চিনি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ফয়সাল গং দেশিয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় শামীম গ্রুপের ওপর।
শামীম জানান, শ্যামগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী বিকাশ সরকার কাশিগঞ্জ বাজারের এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ কেজির ১৪ বস্তা চিনি বিক্রি করেন। ওই চিনি অটোরিকশায় কাশিগঞ্জ যাওয়ার পথে বেলতলী গ্রামের ফয়সাল গং তা লুট করে নিয়ে যায়। বিকাশ সরকার লুটের বিষয়টি শামীমকে জানান ও চিনি উদ্ধার করে দিতে অনুরোধ করেন। এ নিয়ে দেনদরবার হলেও ফয়সাল তা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাদের ওপর হামলা করেন।
চিনি লুটের ঘটনা অস্বীকার করে ফয়সাল বলেন, বিষয়টি আমি শামীমের কাছেই প্রথম শুনেছি। উদ্ধারের ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছিলাম, কিন্তু পরে শুনলাম সে আমাকেই দোষারোপ করছে। রহিম নামে আমাদের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ লোককে সে বাজার থেকে ধরে নিয়ে যায়, যার জবাবে আমরা বিল্লালকে এনেছিলাম।
এদিকে খরব পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাকিল আহমেদ ও গৌরীপুর অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মেজর ইশরাক। একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, শ্যামগঞ্জ বাজারে বাবুল সরকার নামে এক ব্যবসায়ীর গোডাউনে এসব অবৈধ চিনি থাকতে পারে। এদিন সন্ধ্যায় নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে শ্যামগঞ্জ বাজারে বাবুল ব্রাদার্স অ্যান্ড স্টোরে অভিযান চালান তারা।
অভিযানে দেখা যায়, বাবুল স্টোরে ভারতীয় অবৈধ চিনি মাছের খাদ্য সিপি কোম্পানির বস্তায় ভরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। পরে সেখান থেকে ১ হাজার ৮৫০ কেজি চোরাই চিনি উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় বাবুল সরকারের ভাই বিকাশ সরকারকে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে মোড়ক পাল্টে ভারতীয় চোরাই চিনি দেশের বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযানে একজনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। দোকানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
