হাওরে কমছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ২১:৪০

বাজার দখল করেছে চাষের মাছ

 নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

হাওর, বিল, নদী, ছড়া অধ্যুষিত মৌলভীবাজারে প্রাকৃতিক দেশীয় প্রজাতির মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায়ও নদী, হাওর, খাল-বিলে দেশীয় প্রজাতির ছোটো-বড়ো মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। চায়ের টিলাভূমি ও আবাদি জমিতে কীটনাশক ব্যবহার, নদী ও বিল সেচ, নদীতে বাঁশের বেড়া, কারেন্ট জালের ব্যবহার, হাওর, খাল, জলাশয় ভরাটসহ নানা কারণে মাছের প্রজনন আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। বাজার দখল করেছে বিদেশি প্রজাতির চাষকৃত খামারি মাছ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিমওয়ালা মাছ ও পোনামাছ নিধন, কারেন্টজাল ব্যবহার, নদী ও বিল সেচ, নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁশের খাঁটি ও অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করে অবাধ গতিপ্রবাহে বাধা প্রদান করার কারণে মাছের আবাসস্থল, প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও নদী-নালা ভরাট ও সংকুচিত হয়ে আসার ফলে কমলগঞ্জ উপজেলাসহ মৌলভীবাজার জেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছ দিন দিন কমছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৃহত্তর সিলেটে মত্স্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে জনবলের যথেষ্ট অভাব, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, সময়মতো বৃষ্টিপাত ও মাছের বংশ বিস্তারের জন্য পূর্বের মতো পরিবেশের অভাব, পূর্বের বিল, জলাশয়, নদী-নালা সংকোচন ও ভরাট, মাছের আশ্রয়স্থলের পার্শ্ববর্তী জমিতে ব্যাপকহারে কীটনাশক ব্যবহার, পানি নিষ্কাশনে ও সেচ প্রকল্পের কারণে প্রজনন হ্রাস পাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া, ইউসুপ আলীসহ কমলগঞ্জের মত্স্য ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্তমানে হাওর থেকে অল্প পরিমাণে কিছু ছোটো মাছ পাওয়া যায়। বাজারের অন্যান্য মাছগুলো মূলত হাওর কেন্দ্রিক ও বিভিন্ন এলাকার বাণিজ্যিক খামারের। স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাওর-বিলকে কেন্দ্র করে যে সব মত্স্য খামার গড়ে উঠছে সেগুলোতে দ্রুত বর্ধনশীল তেলাপিয়া, ঘাসকার্প ও পাঙ্গাস জাতীয় মাছের চাষাবাদ হচ্ছে। দেশীয় মাছ চাষাবাদে উদ্যোগী কোনো ভূমিকা নেই। মত্স্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ঘোড়া মাছ, নান্দিনা, স্বরপুঁটি, মহাশোল, রিটা, ঘাউরা, বাচা, শিলং, পাঙ্গাস, বাঘাইর, চেনুয়া, ভাঙন, পিলা শোল, চিতল, কালিবাউশসহ ৫৪ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। ৫৪ প্রজাতির মাছের মধ্যে ২৫ প্রজাতির মাছ বিপন্ন, ১৩ প্রজাতির মাছ মহাবিপন্ন ও ১৬ প্রজাতির মাছ সংকটাপন্ন।

সিলেট বিভাগীয় মত্স্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, মত্স্য বিভাগের বৃহত্তর সিলেটে আলাদাভাবে হাওরকে কেন্দ্র করে হাওর মত্স্য উন্নয়ন প্রকল্প বা সিলেট বিভাগীয় মত্স্য উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া গেলে দ্রুত উন্নতি সম্ভব। একই সাথে মত্স্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

মৌলভীবাজার জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. ইমদাদুল হক বলেন, হাওর-বিলে বর্ষার পানি আসার পর মাছের বংশ বিস্তারে কিছুটা সময় দিতে হয়। পানি আসলে বাজারে প্রাকৃতিক মাছের সমাগম ঘটে। এবছর পানি নেই। চৈত্র মাসেও খরা। পরিবেশ বিপর্যয়গত কারণে কিছুটা হ্রাস পেলেও মাছের উত্পাদনে সরকার ও মত্স্য বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।