হুমকিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা
পাইকগাছার চাঁদখালীতে অবাধে গড়ে উঠেছে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কারখানা। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। কারখানার কালো ধোঁয়ায় একদিকে বিঘ্নিত হচ্ছে সড়কে যাতায়াত, অপরদিকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ। এ ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লা কারখানা বন্ধের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
প্রাপ্ত সূত্র মতে, উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের চাঁদখালী-কয়রা সড়কের চাঁদখালী বাজার থেকে কয়রা অভিমুখে সড়কের পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কারখানা। এক সময় অত্র এলাকায় অসংখ্য কারখানা গড়ে ওঠে এবং গড়ে ওঠা এসব কারখানায় পোড়ানো হতো বেশিরভাগ সুন্দরবনের কাঠ। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কারখানা মালিকদের বিপুল পরিমাণ টাকা জরিমানা ও কারখানার চুলা ধ্বংস করে দিলে অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায় কয়লা তৈরির কারখানাগুলো। দীর্ঘদিন প্রশাসনের তদারকি না থাকায় আবারো কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কারখানাগুলো সচল করা হয়েছে। তবে এবার কারখানাগুলোতে বেশিরভাগ পোড়ানো হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির কাঠ। এক একটা কারখানায় পোড়ানো হচ্ছে শত শত মণ জ্বালানি কাঠ। ফলে একদিকে এলাকার গাছপালা উজাড় হয়ে যাচ্ছে, যার কারণে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে এলাকার গাছপালা উজাড় হতে বেশিদিন লাগবে না বলে এলাকাবাসী ধারণা করছে। অপরদিকে প্রধান সড়কের পাশ দিয়েই কারখানাগুলো গড়ে ওঠায় কারখানার কালো ধোঁয়ায় সড়ক দিয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। ধোঁয়ার কারণে এলাকাবাসী আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানান, এ ধরনের কারখানা এলাকায় রয়েছে এটা আমার জানা নেই। যদি কোনো কারখানা গড়ে উঠে থাকে সেসব কারখানার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাইকগাছা নাগরিক কমিটির নেতা মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর বলেন, প্রশাসন জানে না এমন কাজ পাইকগাছাতে হয় না। খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত দিনে বন্ধ থাকা ভয়ংকর চুলাগুলো পুনরায় চালু করেছে। আমাদের কেউ খবর দেয়নি। বিষয়টি জরুরিভিত্তিতে দেখা হবে।
