ঝর্ণাধারা চৌধুরী স্মরণসভা
নোয়াখালী প্রতিনিধি
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিবিজড়িত নোয়াখালীতে গান্ধী আশ্রমকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উত্কর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলে সরকার এ শুভ পদক্ষেপের পাশে থাকবে। মহাত্মা গান্ধীর শান্তি, সম্প্রীতি ও অহিংসার চেতনা আমাদেরকে সবসময় ধারণ করতে হবে। সমাজে নানা অবক্ষয় রোধে এ চেতনার বিকল্প কোনো কিছু নেই। গতকাল শুক্রবার নোয়াখালী সোনাইমুড়ি উপজেলার জয়াগ গ্রামে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আয়োজিত একুশে ও রোকেয়া পদক এবং ভারতে পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত সমাজসেবী গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব ঝর্ণা ধারা চৌধুরীর স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গান্ধী আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান লেখক-সাংবাদিক স্বদেশ রায়।
মন্ত্রী বলেন, শান্তির দূত মহাত্মাগান্ধীর আদর্শের অনুসারী ও সমাজ সেবায় জীবন উত্সর্গকারী গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব ঝর্ণা ধারা চৌধুরী ত্যাগের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের কাছে শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, আমি এর আগে কর্মসূত্রে বাংলাদেশে ছিলাম। তখন ঝর্ণাদিকে আমি কাছ থেকে দেখিছি, তার স্নেহ-ভালোবাসা পেয়েছি। আজকের এ স্বার্থপর বিশ্বে ঝর্ণা ধারা চৌধুরী ছিলেন অন্যের জন্য নিবেদিত। শৈশবে দেখা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার স্মৃতি তাঁকে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের পথে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। সেই থেকে তিনি বিশ্বের কল্যাণে তার জীবন উত্সর্গ করেছিলেন। পরে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয় শঙ্করের পাঠানো একটি শোকবার্তা পড়ে শোনান।
সভায় অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নোয়খালী-১ আসনের এমপি এইচ এম ইব্রাহীম, অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন, অধ্যাপক কামরুল হাসান, অর্থনীতিবিদ ড. জামাল উদ্দিন, সমাজতাত্ত্বিক ও গবেষক ড. খন্দকার সাখাওয়াত আলী, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের ট্রাস্টি তন্ময় দাস এবং নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের পরিচালক রাহা নব কুমার।
