মিরপুর টেস্ট হারের পরে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট। নাজমুল হোসেন শান্তরা এই ম্যাচেও সেশন অনুযায়ী খেলে শেষ সেশনে ফল বের করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত প্রেক্ষাপট দেখা গেছে। দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছিল যে, বাংলাদেশ হারতে চলেছে প্রথম টেস্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবার দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট মাঠে গড়াবে আগামীকাল।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বসতে চলা এই টেস্টেও পাঁচ দিন পরে ফলের আশা করছে বাংলাদেশ। টাইগার বাহিনীর ব্যাটিং ব্যর্থতা দেখা না গেলে, সেটি বাস্তবায়ন কঠিন কিছু না। কিন্তু সব সমস্যার মূলে রয়েছে শান্তদের ব্যাট হাতে নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া। সেটি কাটিয়ে সিরিজে সমতা আনার লক্ষ্যও বাংলাদেশের।
গতকাল অনুশীলন শেষে স্পিনার নাঈম হাসান বলেছেন, 'আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খেলে যাওয়া। পাঁচ দিন পরে ফল আসবে। আমাদের জয়ের দিকেই মনোযোগ থাকবে। তবে ফলের দিকে তাকিয়ে খেলতে গেলে প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করা যায় না। আমরা সব বিভাগে শতভাগ দিয়ে পাঁচ দিন পরে ফল চাই। প্রত্যেকেই নিজের জায়গা থেকে জয়ের বিশ্বাস নিয়ে খেলব। আমার মনে হয়, এখানে আমরা খুব ভালো একটা ফল দেখাতে পারব। আমরা সিরিজ সমতায় আনার চেষ্টা করব।'
চট্টগ্রাম নাঈমের ঘরের মাঠ। এখানে খেলার সুযোগ পেলে বিশেষ কিছু করতে চান তিনি। বিসিবির এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, 'নিজের হোম গ্রাউন্ডে খেলতে খুব ভালো লাগে। আগেও খেলেছি, আমার ক্যারিয়ারের দুটি ৫ উইকেট এই মাঠ থেকে নেওয়া। এখানে সুযোগ পেলে নিজের শতভাগ দিয়ে আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা করব। সবশেষ ম্যাচ যখন খেলেছি এই মাঠে তখনও ৬ উইকেট পেয়েছি।'
মিরপুর থেকে চট্টগ্রাম উইকেট আলাদা। এই বিষয়ে বলেছেন, 'মিরপুর থেকে এখানকার উইকেট আলাদা। আমাদের স্পিনাররা খুব ভালো ফর্মে রয়েছেন। তাইজুল ভাই, মিরাজ ভাই দারুণ খেলছেন। তাতে সব মিলিয়ে আমরা দারুণ ফলের আশা করছি। এই মাঠে কিছুটা স্লো স্পিন হয়। বিষয়টি আমাদের জন্য ভালো। দক্ষিণ আফ্রিকা মিরপুরে আস্তে বোলিং করেছে। কিন্তু আমাদের বোলাররা ৯০ এর ওপরে বল করেছে। ঐ হিসেবে চট্টগ্রামে আমাদের স্পিনারদের জন্য সফলতা তুলে নেওয়া সহজ হবে। আর মুমিনুল হক সৌরভ ভাই কিংবা মুশফিকুর রহিম ভাই স্পিন ভালো খেলেন। তাদের জন্য চট্টগ্রাম আরও ভালো হবে।'
তবে ভালো খেলার জন্য তিন বিভাগেই নজর দিতে হবে সমানভাবে। সে দিকেও মনোযোগ রয়েছে নাঈমদের, 'ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং ভালো না হলে ভালো ফল পাওয়াটা কঠিন। আর ফল আসবে পাঁচ দিন পরে। এর মধ্যে আমরা প্রত্যেকের কাজটি শতভাগ করার দিকেই মনোযোগ রেখেছি। আমরা প্রক্রিয়া অনুযায়ী খেলতে পারলে দিনশেষে ফল ভালো আসবেই। প্রস্তুতিও ভালো হচ্ছে আমাদের। মাঠের মধ্যে যা যা করা লাগবে তার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সবশেষ ম্যাচে যে ভুলগুলো হয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। খেয়াল রাখছি এই ভুলগুলো যেন সামনে আর না হয়।'
ব্যাট হাতে যে কাজটি ব্যাটারদের করা দরকার, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি অনেক সময়ে বোলারদেরও করতে হয়। বিষয়টি নিয়ে নাঈমের চিন্তা, 'যখন ব্যাটিংয়ে নামি তখন নিজেকে ব্যাটারই মনে করি। সে সময়ে মাথায় চিন্তা থাকে, আমি যত রানই করতে পারব আমার দলের জন্য তত লাভ হবে। লোয়ার অর্ডারে কোনো জুটি হলে প্রতিপক্ষ দলের মোমেন্টামটা পরিবর্তন হয়ে যায়। শেষদিকে একটা বড় জুটিই পারে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে।'
